রান্নার গ্যাস পেল না সরদারপাড়া, জঙ্গলে কাঠ কুড়িয়েই দিন গুজরান, কত ভোট এল-গেল, এখনো হতাশা পেট্রাপোলে
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, বনগাঁ: রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে ওঁদের কোনো হেলদোল নেই। প্রচুর ভোট এসেছে, গিয়েছে। কিন্তু ওঁদের ঘরে গ্যাস পৌঁছায়নি। জঙ্গলে কাঠ কুড়িয়ে আনেন ওঁরা। তাই দিয়েই রান্নাবান্না করতে হয়। সব ঘরে গ্যাস, কেন্দ্রীয় সরকারের বুলি যে আসলে কতটা ফাঁপা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মেলে পেট্রাপোলের পারুইপাড়ায় গেলে।
তাই পারুইপাড়ার সরস্বতী বিশ্বাস, ললিতা মিত্র, মালতী সরদার, লক্ষ্মী সরদারদের গ্যাসের দাম নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। ওরা জানেন জঙ্গলের কোন কাঠটি কুড়িয়ে আনলে ভালো আগুন হয়। মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে জঙ্গল থেকে আসছিলেন পারুইপাড়ার সরস্বতী। বৃদ্ধা বলেন, ‘জ্বালানির জন্য আমাদের কাঠই সম্বল। কাঠ না কুড়োলে বাড়িতে উনুন জ্বলবে না। সামনে বর্ষা। এখন থেকে জোগাড় করে রাখতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। গ্যাসের টাকা কোথায় পাব।’ তখন কোমরে কাঠের বোঝা নিয়ে অন্যদিক থেকে এদিকে আসছিলেন বছর পঁচাত্তরের ললিতা মিত্র। তিনি বলেন, ‘এখন কাঠ সহজে মেলে না। বাগান কেটে দিচ্ছে সবাই। গ্যাস কেনার এত টাকা কোথায় পাব?’
বাগদার মালিপোতার সরদার পাড়ার বাসিন্দা মালতী সরদার, লক্ষ্মী সরদাররা একসঙ্গে জঙ্গলে যান জ্বালানির কাঠ আনতে। পড়ে থাকা শুকনো কাঠ জড়ো করেন সারাদিন ধরে। বোঝা বেঁধে ছেদে মাথায় করে বাড়ি আনেন। বছরের পর বছর এভাবেই কাঠ সংগ্রহ করে উনুন জ্বালাতে হয় ওঁদের। ভর্তুকির গ্যাস ওঁদের রান্নাঘরে পৌঁছয় না। জঙ্গলের কাঠই বাঁচিয়ে রেখেছে। ওঁরা জানান, ভোটের আগে বাবুরা আসেন। নানা জনে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট মিটলে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
ভোটের আগে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় সমস্যায় পড়েছে অধিকাংশ মানুষ। জোগানেও দেখা দিয়েছে ঘাটতি। ফলে জ্বালানি কাঠের দাম গিয়েছে হঠাৎ বেড়ে। জ্বালানি কাঠ ব্যবসায়ী অসিত অধিকারী বলেন, ‘আগে ১৯০-২২০ টাকা ছিল এক মণ কাঠের দাম। এখন ২৬০-২৭০ টাকা প্রতি মণ। বিক্রিও হচ্ছে বেশি।’ তবে বৃদ্ধা ললিতা বা সরস্বতীর এসবের কিছুতেই কিছু এসে যায় না। তাঁরা কুড়িয়ে বাড়িয়ে যতটুকু পান ততটুকু কাঠেই সারতে হয় বাড়ির রান্না। না হলে আধপেটা খান। আর অভুক্ত থাকলেও তাতে কার কি যায় আসে!