সিংহভাগ পরীক্ষার্থী জমা দেয়নি উচ্চ মাধ্যমিকের প্রজেক্টের খাতা, ডেডলাইন নিয়ে আশঙ্কায় বহু স্কুল
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকে পরিবর্তিত পদ্ধতির প্রজেক্ট এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে প্রহসন চলছেই! আগে বলা হয়েছিল, ২৬ মার্চের মধ্যে প্রজেক্ট এবং প্র্যাকটিক্যালের নম্বর সংসদে পাঠাতে হবে স্কুলগুলিকে। সময় বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ১ এপ্রিল। তা সত্ত্বেও বহু স্কুলে সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী এখনও প্রজেক্টের খাতা জমা দেয়নি। শনিবার বেশ কিছু স্কুল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের। তারপরেও কাজ হয়নি। ফের সোমবার প্রজেক্টের খাতার জমা দেওয়ার জন্য প্রচার চালাতে চলেছে স্কুলগুলি।
প্রজেক্টে বরাদ্দ থাকে ২০ নম্বর। শারীরশিক্ষা বিষয়ে আবার প্রজেক্ট (১০ নম্বর) ও প্র্যাকটিক্যাল (২০ নম্বর) দু’টিই থাকে। একজন শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলের একজন ছাত্র প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা না দিয়েই বাইরে বেড়াতে চলে গিয়েছে। তাকে বাধ্য হয়ে যোগাসন করে ভিডিও করে পাঠাতে বলা হয়। সেটাও সময়মতো পাওয়া যায়নি। ইতিহাসের প্রজেক্ট জমা না দেওয়ায় একজন শিক্ষক ফোন করেন তাঁর এক ছাত্রকে। তিনি প্রস্তাব দেন, প্রজেক্ট তৈরি না হলেও একটি পরীক্ষা নিয়ে আসবেন। তার ভিত্তিতেই নম্বর দেবেন। সেই ছাত্র জানিয়ে দেয়, সে বাড়িতেই নেই। জেলার দিকে বহু ছাত্র প্রজেক্ট জমা বা প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা না দিয়েই অন্যত্র কাজে চলে গিয়েছে। তাদের নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্কুলগুলি।’
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ প্রজেক্টের খাতা জমা নেয়। তাই যেমন-তেমনভাবে হলেও একটি খাতা জমা দিতে হয়। অনেক সময় স্কুলগুলিই পড়ুয়াদের হয়ে একটি খাতা তৈরি করে দিতে বাধ্য হয়। ১ মার্চের মধ্যে নম্বর জমা না দিলে পড়ুয়া পিছু ২০০ টাকা করে ফাইন নেবে সংসদ। সেটাও ভাবাচ্ছে তাদের।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ২০ নম্বরের প্রজেক্ট বা ৩০ নম্বরের প্র্যাকটিক্যাল দায়সারা ভাবে উতরে দিলেও বা একেবারেই না দিলেও পূর্ণমান পেয়ে যায় ছাত্রছাত্রীরা। ২০২০ সালের পর থেকে কোনো এক্সটার্নাল পরীক্ষক ছাড়াই এই পরীক্ষাগুলি হয়। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নম্বরের কার্যত কোনো মূল্যায়নই হয় না বলে দাবি বড় অংশের শিক্ষকদের।
দক্ষিণবঙ্গের একটি নামী সরকারি স্কুলের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার খাতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সেটির তদন্ত করছে সংসদ। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিন পড়ুয়াকেই ফুল মার্কস দেওয়া হয়েছে। এমনও দেখা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ১০-এর কম পেয়েও প্রজেক্ট বা প্র্যাকটিক্যালে ফুল মার্কস পাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। তাই এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। লিখিত পরীক্ষার মতোই অন্য স্কুলে, অন্তত অন্য স্কুলের শিক্ষক নিয়ে এসে মূল্যায়ন হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে অনেকে মনে করছেন। প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় বেশ কিছু স্কুলে আচমকা পরিদর্শনও করেছিল সংসদ। তা সত্ত্বেও সার্বিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।