প্রচারে ঝড় সব পক্ষের, বিচারাধীন তালিকা থেকে মুক্ত ২ তৃণমূল প্রার্থী
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভোট প্রচারে মাতল হুগলি। শনিবার আংশিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকেলের জনসংযোগে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছে সবুজ-লাল-গেরুয়া সব শিবিরে। সপ্তাহের অন্যদিনের তুলনায় এদিন বাড়তি এলাকায় জনসংযোগের কাজে দেখা গিয়েছে প্রার্থীদের। মূলত সব প্রার্থীই অন্তত দু’টি করে অঞ্চল ঘুরেছেন। কেউ কেউ সেটি তিনেও নিয়ে গিয়েছেন। শনিবারের সকাল থেকে দুপুরের পর্ব ছিল দলীয় কর্মী বৈঠক। আর বিকেল গড়াতেই জনসংযোগে নেমে পড়েন প্রার্থীরা।
তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন প্রচারে ছিলেন না চুঁচুড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোনয়নের প্রথম পর্বেই তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়ন মিটিয়ে ফেলতে চান। তারই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই কাজেই জেলা সদরের প্রার্থী তথা তরুণ নেতা দেবাংশু কলকাতায় গিয়েছেন। এদিকে, মনোনয়ন নিয়ে হুগলির ক্ষেত্রে উদ্বেগের অবসান হয়েছে রাজ্যের শাসক দলের। তৃণমূলের দুই ঘোষিত প্রার্থী চণ্ডীতলার স্বাতী খোন্দকার ও উত্তরপাড়ার শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ভোটার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দু’জনেরই নাম এসআইআরে বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। এদিন উত্তরপাড়ার প্রার্থী আইনজীবী শীর্ষণ্য বলেন, আমার বাবা তিনবারের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর আমার ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কমিশন। একরকমের মানসিক নির্যাতন করা হয়ছে। যা ক্ষমার অযোগ্য।
শনিবার সকাল থেকে প্রচারে নেমেছিলেন উত্তরপাড়ার তরুণ তুর্কি বামপ্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। উত্তরপাড়া ও কোন্নগর দু’টি পুরসভা এলাকাজুড়ে এদিন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মীনাক্ষী। দফায় দফায় দু’টি এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করেছেন, পাড়া বৈঠকে জনসংযোগ করেছেন। জেলাজুড়ে এদিন বামপ্রার্থীদের জবরদস্ত প্রচার দেখা গিয়েছে। বৈদ্যবাটি পুরসভাতে প্রচার করেছেন চাঁপদানির বামপ্রার্থী চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভদ্রেশ্বরে প্রচার করেন মণীশ পাণ্ডা। কখনও মিছিল কখনও পাড়া বৈঠক, বাড়ি বাড়ি প্রচার বামেদের তরফে সবই এদিন দেখা গিয়েছে।
দাপিয়ে প্রচার করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থীরা। নবীন থেকে প্রবীণ, সমস্ত প্রার্থীদের প্রচারেই ছিল ঝাঁঝ। সকলেই প্রচারের কাজে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শনিবারের কার্যত ছুটির দিনকে পুরোদস্তুর ব্যবহার করাই ছিল লক্ষ্য। আর তাতে অনেকটাই সফল তাঁরা। এদিন রিষড়া ও শ্রীরামপুর পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় জোরদার প্রচার করেছেন তৃণমূলের নতুন প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। একইভাবে পুরনো প্রার্থী বেচারাম মান্না সিঙ্গুরে প্রচার করেছেন। কখনও পদযাত্রা কখনও বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, দিনভর প্রচার করেছেন। চণ্ডীতলার স্বাতী খোন্দকার ও পাণ্ডুয়ার সমীর চক্রবর্তী দিনভর দফায় দফায় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে রণকৌশল তৈরি করেছেন। বিজেপির চন্দননগরের প্রার্থী দীপাঞ্জন গুহ এদিন আদি হালদার পাড়ার মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রথমবারের জন্য প্রচারে নামেন। পাণ্ডুয়ায় তুষার মজুমদার, বলাগড়ে সুমনা সরকার ও সপ্তগ্রামে স্বরাজ ঘোষকেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার করতে দেখা গিয়েছে।