• অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ দখল করবে বিজেপি, প্রত্যয়ী ঘোষণা অমিত শাহের
    বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহার, ওড়িশার পর এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনে প্রত্যয়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার নিউটাউনের এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ দাবি করেন, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে এক সরকার আসতে চলেছে। তাঁর কথায়, অনেকদিন পর বাংলা-বিহার-ওড়িশায় একই দলের সরকার হবে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ১৫ বছরের অপশাসনের সাতকাহন নিয়ে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেন শাহ। আসন্ন ভোটে রাজ্যবাসীকে ভয়-ডরহীনভাবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের আবেদন জানান। তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট ভয় মুক্তির নির্বাচন। ভরসার ভোট। এসআইআর নিয়ে ধারাবাহিক বিতর্ক চলছে। এসআইআর নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপির ‘মোটা ভাই’। শাহের প্রশ্ন, কেন শুধু এই রাজ্যেই এসআইআরে জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বিচারবিভাগীয় অফিসার নিয়োগ করতে হল? নিজেই তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এখানকার জেলাশাসকেরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, মমতাদিদি যা খুশি অভিযোগ আনতে পারেন। অনুপ্রবেশকারীদের শুধু ভোটার তালিকা থেকে বের করব না, অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে আমরা দেশ থেকে বের করব।

    ২০২১ সালের ভোটের আগে দুর্ঘটনায় তৃণমূল সুপ্রিমো পায়ে চোট পান। গোটা নির্বাচনে তিনি হুইল চেয়ারে বসেই প্রচার ও পার্টির কাজ সামলান। বিজেপির অনেকেই এই ঘটনাকে জনতার সহানুভূতি কুড়ানোর কৌশল বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই নির্বাচনে অমিত শাহ নিজে বঙ্গ বিজেপিকে ২০০ আসন জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু পদ্ম পার্টির বিজয়রথ মাত্র ৭৭’এ গিয়ে থমকে যায়। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সুনির্দিষ্ট কোনও আসন বেঁধে দেননি শাহ। পাশাপাশি অতীতের তিক্ত স্মৃতি ভুলতে পারেননি মোদির প্রধান কাণ্ডারি। সেই সূত্রে এদিন শাহ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করেন। ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে, জনগণের সহানুভূতি চান। কিন্তু এ বার তা হবে না। ভোটারদের উদ্দেশ্যে শাহের বার্তা, ১৫ বছরে কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন। পাশাপাশি বাংলা-বাঙালি তাস খেলতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের বাংলা আর কবিগুরুর বাংলা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে এদিন রাজ্য সরকারকে কার্যত তুলধোনা করেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এখন একটাই মাত্র রাস্তা রয়েছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভোট গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জড়িত। তৃণমূলের যে অরাজকতা এবং অপশাসন, তার কী সমাধান, তা-ও বলব। আজ চার্জশিট প্রকাশ করা হল। এরপরে আমরা পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা বানানোর রোড ম্যাপ প্রকাশ করব। অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শাহ বলেন, এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? উনি প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে! বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। শাহের হুংকার, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন‍্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রের হাতে তুলে দেবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)