• পালটা চার্জশিট তৃণমূলের, মোদি-শাহকে তুমুল আক্রমণ
    বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার্জশিট বনাম চার্জশিট। বিজেপি বনাম তৃণমূল। ২৬-এর ভোটযুদ্ধে শনিবার এভাবেই সরগরম থাকল বঙ্গ রাজনীতি। বাংলায় তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’ আখ্যা দিয়ে চার্জশিট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলের তরফে পালটা ১৫ পাতার চার্জশিট পেশ করা হয় বিজেপির বিরুদ্ধে। যেখানে তৃণমূল দাবি করেছে, ‘বাংলা বিরোধী বিজেপি। মোটা ভাই, জবাব চাই।’

    শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ। সেখান থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। তৃণমূল বলছে, ‘অমিত শাহ চার্জশিট নিয়ে বাংলায় এসে গোটা রাজ্যকেই অপরাধী হিসাবে দাগিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু উনি নিজেই একজন জেলখাটা, তাড়িপার তকমা পাওয়া অপরাধী। বাংলার সমস্ত মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে উনি ঘোরতর অপরাধ করেছেন। দুর্নীতির সর্দার দিল্লির জমিদার। ২৩টি গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতারা বিজেপিতে এসে ক্লিনচিট পেয়ে গিয়েছেন। এই তালিকায় হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অজিত পাওয়ার, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিরোধী দলনেতার মতো অনেক নাম রয়েছে।’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তৃণমূলের সরাসরি প্রশ্ন, মণিপুরে ৩০০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। সেখানে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ কেন অমিত শাহ? কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর দায় কার? ২০২৫ সালে দিল্লিতে বিস্ফোরণে ১৫ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে। দেশের রাজধানী কেন সুরক্ষিত নয়? নারী নির্যাতন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি তালিকার প্রথম তিনে রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের বক্তব্য, কেন্দ্রের তরফেই কলকাতা পেয়েছে নিরাপদতম শহরের তকমা।

    বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূলের দাবি, ‘অপরিকল্পিত এসআইআরে ২০০ জনের প্রাণ গিয়েছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের। দু’লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক বঞ্চনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন ব্রাত্যবাবুরা। বেকারত্ব, কৃষকদের উপর অত্যাচার, চা শ্রমিকদের পিএফ না দেওয়া, বাংলার মনীষীদের অপমান সংক্রান্ত প্রত্যেকটি ইস্যু তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছে তৃণমূল। সেই সঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তাদের প্রকাশিত চার্জশিটে একটি ছবি তুলে ধরে দেখিয়েছে অমিত শাহের সঙ্গে এক কয়লা মাফিয়ার ঘনিষ্ঠতা। তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘ফরেন গিয়ে বেচে দেশ, বিশ্বগুরুর ছদ্মবেশ’! ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বিজেপি যে বাংলাকে টার্গেট করেছে, তা সাম্প্রতিক সমস্ত ঘটনায় প্রমাণিত। কিন্তু আমরা জোরের সঙ্গে বলছি, গেরুয়া রঙে চুবিয়ে দিলেও বাংলাকে বিজেপি নিতে পারবে না।’ সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কথায়, ‘বাংলার মানুষকে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে যে অন্যায় অমিত শাহ করেছেন, এর জবাব উনি শীঘ্রই ভোটবাক্সে পাবেন।’ সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ‘বিজেপি নিজেদের ডবল ইঞ্জিনের সরকার বলে দাবি করে। আসলে ওরা হল ব্যর্থ ইঞ্জিনের সরকার।’
  • Link to this news (বর্তমান)