• এক সপ্তাহ পরও তালিকা নেই বুথে, ভোটদানে বঞ্চিত বিচারাধীনরা?
    বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানার পর ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের তিনটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রথম তালিকা প্রকাশের পর প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললেও রাজ্যের কোনো বুথে তালিকা এখনও পৌঁছায়নি। প্রবল আতঙ্কে ভুগছেন ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা লক্ষ লক্ষ ভোটার। আসন্ন নির্বাচনে আদৌ তাঁরা ভোট দিতে পারবেন তো? আশঙ্কা দানা বাঁধছে। 

    সংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে সেটি প্রত্যেক বুথে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও তাই হয়েছিল। সমস্ত বুথে তালিকা পৌঁছে গিয়েছিল বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) মারফত। বুথে বুথে সেই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকে সেই রীতিতে ছেদ পড়েছে। রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি বুথের কোথাও তালিকা ঝোলানো হয়নি। শুধুমাত্র কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা দেখা যাচ্ছে। ভোগান্তি এখানেও। অনেকের অভিযোগ, ওয়েবসাইট সবসময় ঠিকঠাক কাজ না করায় তাঁরা তালিকা দেখতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের প্রশ্ন, কেন কমিশন বুথে তালিকা ঝুলিয়ে দিচ্ছে না? মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভার ‘বিচারাধীন’ ভোটার আকবর আলি বলছিলেন, ‘বুথে কবে তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা বারবার জানতে চাওয়া হলেও বিএলও উত্তর দিতে পারছেন না। ওয়েবসাইটে এপিক নম্বর দিয়ে খুঁজলেও নাম পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুই জানতে পারছি না। ভোটারদের আর কত হয়রান করবে কমিশন?’ 

    এদিকে, প্রথম দফার মনোনয়ন পর্ব শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য মনোনয়নের শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। অর্থাৎ, প্রথম দফায় রাজ্যের যে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, তার ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাবে ৬ তারিখই। বাকি আসনের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হবে তার তিনদিন পর। সূত্রের খবর, তার আগে বুথে বুথে তালিকা টাঙানো নাও হতে পারে। সবটাই থাকবে ওয়েবসাইটে। ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার আগে পর্যন্ত যেহেতু বুথে তালিকা নাও থাকতে পারে, তাই কোনো বুথের ‘বিচারাধীন’ ভোটাররা সার্বিকভাবে জানতেই পারবেন না, তাঁদের নাম আছে না বাদ পড়েছে? তাঁদের মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়েও প্রবল সংশয় দেখা দিয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় যদি কোনো ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম না থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, ৬০ লক্ষের কিছু বেশি ‘বিচারাধীন’ ভোটারের বিষয়টি এখন আর তাদের হাতে নেই। বিচার বিভাগীয় বিষয় হয়ে গিয়েছে। বিচারকরা নথি দেখে নিষ্পত্তি করে পাঠাচ্ছেন। কমিশন কেবল সেটি প্রকাশ করছে। 

    এখানেই একাধিক প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাদের বক্তব্য, সাংবিধানিক রীতি ভেঙে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের ক্ষেত্রে কেন এমন করা হচ্ছে? কেন বুথে তাদের তালিকা দেওয়া হচ্ছে না? তাহলে কি বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছিল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা? শেষমেশ সেটাই হয়ে গেল ‘বিচারাধীন’! 
  • Link to this news (বর্তমান)