এই সময়, গোরুমারা: ফের পুরুষ গন্ডারের আক্রমণে প্রাণ গেলো গোরুমারার এক স্ত্রী গন্ডারের। কয়েকদিনের ব্যবধানে এই নিয়ে দু’টি স্ত্রী গন্ডারের মৃত্যু হলো। এই ঘটনার পেছনেও গোরুমারার সেই ঘাতক পুরুষ গন্ডার রয়েছে কি না তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে বন দপ্তর। কুনকি হাতি দিয়ে চলছে তল্লাশি।
শুক্রবার রাতে রুটিন টহলদারির সময় বন দপ্তরের কর্মীরা গন্ডারের দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। শনিবার ওই দেহটি গোরুমারায় নিয়ে আসা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। উল্লেখ্য, গত ২৩ শে ফেব্রুয়ারি একই ভাবে একটি স্ত্রী গন্ডারের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় রামসাইয়ের মেদলায়। বন দপ্তর সে সময়ে জানতে পারে ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে পুরুষ গণ্ডারের অতিরিক্ত চাপে স্ত্রী গন্ডারটির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার রাতে যে স্ত্রী গন্ডারটির দেহ উদ্ধার হয়েছে তার শরীরেও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। সেই চিহ্ন দেখেই বনকর্মীদের অনুমান এই গন্ডারটির মৃত্যুর নেপথ্যেও একই কারণ। রাতে বন দপ্তরের মেদলা ক্যাম্পের বনকর্মীরা ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই গন্ডারের দেহটি উদ্ধার করেন।
গোরুমারাতে স্ত্রী গন্ডারের তুলনায় পুরুষ গন্ডারের সংখ্যা বেশি। প্রায়ই সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে সামিল হচ্ছে গন্ডাররা। এর আগে এমন লড়াইয়ে একাধিক পুরুষ গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই গোরুমারার রামসাই মেদলা এলাকায় গন্ডারের লড়াই চলছে। অনেক সময় সেই গন্ডাররা লড়াই করতে করতে মূর্তি ও জলঢাকা নদীর চরে চলে যাচ্ছে। শনিবারও দু’টি গন্ডার লড়াইয়ে সামিল হয় বলে বন দপ্তর সূত্রে খবর।
গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের ADFO রাজীব দে জানান, শনিবার গন্ডারের দেহ ময়নাতদন্তের পর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, দেহের ক্ষত দেখে তাদের ধারণা পুরুষ গন্ডারের অতিরিক্ত চাপে কিংবা আক্রমণের কারণেই পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী গন্ডারটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর বন দপ্তরের রামসাই মেদলা ক্যাম্পের কুনকি হাতি দিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে বনকর্মীরা। সাম্প্রতিক এই দুই ঘটনার নেপথ্যে একটিই পুরুষ গন্ডার রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।