• স্বস্তি দেগঙ্গার তৃণমূল প্রার্থীর, গাইঘাটায় বাদ ২০৬ জন, কমিশনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখে বিস্মিত BLO–রাও
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, দেগঙ্গা ও গাইঘাটা: ‘বিচারাধীন’ থেকে অবশেষে ভোটার হলেন দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আনিসুর রহমান। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আনিসুরের নাম ওঠায় স্বস্তিতে শাসক শিবির।

    বহু বছর ধরেই দেগঙ্গার কাউগাছি এলাকায় বসবাস করছেন আনিসুর। তাঁর জন্মও এ দেশে। আনিসুরের বাবা সিরাজুল ইসলামের ছয় ছেলেমেয়ে। শুধুমাত্র সেই কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান তিনি। চলে যান বিচারাধীন তালিকায়। এরপরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের নথি যাচাই করতে দেওয়া হয় বিচারকদের। আনিসুর তাঁর যাবতীয় নথি জমা দেন এইআরও–এর কাছে। এরই মধ্যে দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে আনিসুর রহমানকে প্রার্থী করে তৃণমূল। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম থাকায় রীতিমতো চিন্তায় ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নিজের নামটা দেখার পরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তিনি। দেগঙ্গার ১৪২ নম্বর পার্টের সাপ্লিমেন্টারি তালিকার ১৩০০ সিরিয়াল নম্বরে নাম রয়েছে আনিসুর রহমানের।

    এ প্রসঙ্গে আনিসুর বলেন, ‘আমার বাবার ছয় ছেলে–মেয়ে। সেই কারণে আমাকে বিচারাধীন করা হয়। আমি সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম, আমার নাম উঠবে। তবুও কিছুটা চিন্তায় ছিলাম। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নামটা দেখার পরে এখন বলতে পারেন, পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হলাম।’

    দেগঙ্গার তৃণমূল প্রার্থীর নাম উঠলেও গাইঘাটা বিধানসভার বেড়গুম ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর বুথের মোট ২০৬ জনের নাম ওঠেনি। ফলে ‘বেনাগরিক’ হওয়ার ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। এরজন্য কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপির সরকারকে দুষছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও বলেন, ‘বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরেও বেশ কিছু ভোটারেপ নাম বাদ যাওয়ায় আমি নিজেও হতবাক।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পার্টের মোট ভোটার ছিল ১৩৭০ জন। সার পর্বের শুরুতে মৃত ও ডুয়েল ভোটার মিলিয়ে বাদ গিয়েছে ৯৪ জন। এরপরে শুনানির শেষে ভোটার সংখ্যা হয় ১০৫৫ জন। চূড়ান্ত তালিকা থেকে আগেই বাদ গিয়েছিলেন ৪ জন। বিচারাধীন ছিলেন ২০২ জন ভোটার। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বিচারাধীন ২০২ জনের নামই বাদ গিয়েছে। তাঁদেরই একজন টোটন দাস। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের দুই বোনের নাম বিচারাধীন ছিল। তাদের নাম বাদ গিয়েছে। আমরা গত ২০ বছর ধরে এখানে ভোট দিচ্ছি। পাসপোর্ট থেকে জাতিগত শংসাপত্র–সহ সব নথি রয়েছে। সেগুলো জমাও দিয়েছি। অথচ, আমাদের নাম কী কারণে বাদ গেল, সেটাই বুঝতে পারছি না। ভোটাধিকার হারিয়ে আমরা খুব চিন্তায় রয়েছি। এর জন্য দায়ী বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন।

    বেড়গুম ২ নম্বর গ্মা পঞ্চায়েতের প্রধান ঝুমা ঘোষ বলেন, ‘ওই পার্টের বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। নির্বচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা বিজেপির চক্রান্ত।’

    সংশ্লিষ্ট পার্টের বিএলও নারায়ণ কুমার সর্দার বলেন, ‘আমার পার্টের অনেকেই বৈধ নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের নামও বাদ গিয়েছে। অথচ, যাঁদের নথির অভাবে নাম বাদ যাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে। এতে আমিও অবাক।’

  • Link to this news (এই সময়)