• মরিয়া ঘাসফুল! কুলটিতে আসন ফেরাতে ভরসা অভিজিৎ
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, কুলটি: একজন রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। প্রতিপক্ষ ভূমিপুত্র, তার উপরে গতবারের বিজয়ী প্রার্থী। অভিজিৎ ঘটক বনাম অজয় পোদ্দারের দ্বৈরথ নিয়ে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। জোরকদমে চলছে প্রচার। পদ্মের হাত থেকে এই আসন ছিনিয়ে নিতে মরিয়া ঘাসফুল।

    শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন তিনবারের জয়ী বিধায়ক, কুলটির অবিসংবাদী নেতা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মাত্র ৬৭৯ ভোটে হারের পরে এ বার আর ঝুঁকি নেয়নি শাসকদল। রাতারাতি প্রার্থী বদলে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাইকে নতুন মুখ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু তাতে কী ছবিটা পাল্টাবে?

    বিজেপি প্রার্থী যেমন প্রচারে তুলে ধরছেন ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। অজয় বলছেন, ‘উনি তো এই এলাকার মানুষই নন। বিধায়কের সামান্য একটা সইয়ের প্রয়োজন হলে কি এখানকার মানুষ ১৭ কিলোমিটার উজিয়ে আসানসোলে ছুটবেন? এখানে পাঁচ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে, তাতে ফের জিতব।’

    উন্নয়নের যে ফিরিস্তি পদ্ম-প্রার্থী দিচ্ছেন, তার সঙ্গে এখানকার মানুষ কিন্তু সহমত হতে পারছেন না। যেমন ২৩৯ কোটি টাকা খরচ করে ২০২০-তে যে জলপ্রকল্প তৈরি হয়েছিল, তা দিয়ে ২৮টি ওয়ার্ডের সর্বত্র বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া যায়নি। পাঁচ বছর আগে বরাকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ শুরুই করা যায়নি। বরাকরের সাতটি ওয়ার্ডে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে অপরিশোধিত জল সরবরাহের ক্ষেত্রে। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানার বরাকর বাসস্ট্যান্ডের আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতির পরে পেরিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ এক দশক। কাজ শুরুই হয়নি। তৈরি হয়নি দমকল কেন্দ্র। কুলটির স্টেশন রোডে তৈরি হয়নি উড়ালপুল। খোলেনি ডিসেরগড়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও।

    অভিজিৎ বলছেন, ‘শেষ পাঁচ বছরে কী উন্নয়ন হয়েছে, তা সকলেই দেখেছেন। কুলটি আমার কাছেও খুব অপরিচিত নয়। এখানকার মানুষের সঙ্গেই রয়েছি। তাঁরাও আমাকে হাতের মুঠোর মধ্যেই পাচ্ছেন, পাবেনও। হারানো আসন ফেরাব।’ তবে কিছুই হয়নি, সেটাও মানা যাচ্ছে না। হয়েছে স্টেশন রোড। নানা অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ পথবাতি, জল সরবরাহের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প বসেছে। ৫০০ বছরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বর মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কুলটির কেন্দুয়ায় রেলের সহযোগিতায় একটি রাস্তায় ওভারব্রিজ হচ্ছে।

    চাওয়া এবং না-পাওয়ার সেই চক্রব্যূহের মধ্যে দাঁড়িয়ে গলা চড়াচ্ছেন দুই প্রার্থী। শেষ হাসি কার?

    ভোটাররা মুখে আপাতত কুলুপ এঁটেছেন!

  • Link to this news (এই সময়)