সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
দু'টি পাড় এক হতে চায়। সেতুরও প্রয়োজন আছে। কিন্তু সে কথা কি কেউ কানে তুলছেন?
সেতুর দাবিটা উঠেছিল সেই বাম-আমলে। ডেবরাবাসীর সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। দেখতে দেখতে ফের একটি ভোট এসে গেল। ফের প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা ছুটছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের মনে প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে- ভোট পেরিয়ে গেলে সেতু-কথা সবাই আবার ভুলে যাবে না তো?
ডেবরা ব্লকের ট্যাবাগেড়িয়ায় কাঁসাইয়ের উপরে সেতু তৈরি হলে কমবেশি প্রায় সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। কারণ, কাঁসাইয়ের এক পারে ভবানীপুর, সত্যপুর, মলিঘাটি ও গোলগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। অন্য পারে সত্যপুর, খানামোহন, ডেবরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। সেতু না থাকায় বর্ষায় যাতায়াতের জন্য ভরসা নৌকো। তখন অসুস্থদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সও ঢোকে না এলাকায়। বাধ্য হয়ে ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরপথে এলাকার মানুষকে ডেবরায় আসতে হয়। আর জল কমলে নদীর বুকে তৈরি করা হয় অস্থায়ী মোরাম রাস্তা ও জল নিকাশির জন্য ছোট কাঠের সেতু।
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তা ও সেতু তৈরি করা হয়। অসময়ের বৃষ্টিতে জলের তোড়ে কখনও কখনও সে সব ভেঙেও পড়ে। জল কমলে ফের খরচ করে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ভোলানাথ সাউটিয়া বলেন, '১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে সময় নষ্ট হয়। খরচও বাড়ে। ট্রাকে জিনিসপত্র আনতে গেলে বেশি ভাড়া দিতে হয়। আমাদের দাবি, স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।' ট্যাবাগেড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রণবেশ ঘোড়ইয়ের কথায়, 'স্থায়ী সেতু ভীষণ জরুরি। বিশেষত, ভাবনীপুর, ভরতপুর, সত্যপুর এবং খানামোহন- এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিত্য যাতায়াত করেন এই পথে।' স্থানীয়দের দাবি, সেতু হলে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবেন।
এই সেতু নির্মাণ হলে বর্ধমান, আরামবাগ, দাসপুর থেকে ডেবরা, পটাশপুর হয়ে দিঘা যাওয়ার পথও সুগম হবে। যে কারণে বাম-আমলেও এই সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে। এ বার ডেবরায় ভোটে দাঁড়িয়েছেন সিপিএমের সুমিত অধিকারী। তিনিও স্বীকার করছেন, 'এলাকার মানুষের এই দাবি সঠিক। বাম আমলেও আমাদের সরকার সেতু নির্মাণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংযোগকারী রাস্তার জন্য জমি না মেলায় সেতু নির্মাণ করা যায়নি। তবে কথা দিচ্ছি, আমি নির্বাচিত হলে মানুষকে বুঝিয়ে সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হব।'
ডেবরার বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের হুমায়ুন কবীরও জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। তা মঞ্জুরও হয়েছে। কিন্তু নদীর দু'দিকে সংযোগকারী রাস্তার জন্য প্রায় ৬.২ একর জমির প্রয়োজন। জমি না মেলায় সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, 'আমি গ্রামে গিয়ে মানুষকে বুঝিয়েছি। অনেকেই জমি দেওয়ার জন্য লিখিত অনুমতিপত্রও দিয়েছেন। কিন্তু সকলে এখনও জমি না দেওয়ায় কাজটি করা যায়নি।' তাঁর দাবি, কাজটি সরকারি ভাবে যে জায়গায় রয়েছে তাতে জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ হলেই সেতু নির্মাণে আর কোনও অসুবিধা থাকবে না।
এ ব্যাপারে ডেবরার বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস ওম বলেন, 'আমি এ ভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পক্ষপাতী নই। তবে আমরা ক্ষমতায় এলে যে কাজটি প্রথম করা উচিত, সেটাই করব। যদি সেই কাজ হয় ওই সেতু নির্মাণ, তা হলে সেতুটাই আগে তৈরি করব।'