এই সময়, চন্দ্রকোণা: ভোট যত এগিয়ে আসছে, চড়ছে প্রচারের পারদও। যুযুধান দু’পক্ষের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই দলের প্রার্থীদের সমর্থনে মিটিং, মিছিল করছেন। সকাল–বিকেল পাড়ায় পাড়ায় দেখা মিলছে প্রার্থীদের। কেউ ভোটারের দাড়ি কেটে দিচ্ছেন। কেউ রান্না করে দিচ্ছেন। কেউ কাঠের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। কেউ আবার ভোটারের বাড়িতে পাত পেড়ে খেতে বসে যাচ্ছেন। এ সবের মধ্যেও ভোটারদের ক্ষোভ–অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। সবই চলছে একসঙ্গে। আবার দুই প্রার্থীর প্রচার এক এলাকায় পড়ে গেলে সৌজন্য বিনিময়ও হচ্ছে। চন্দ্রকোণায় তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে এমনই এক সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল। তবে কোনও প্রার্থী নয়, এই সৌজন্য বিনিময় হলো প্রতিপক্ষের নেতার সঙ্গে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার চন্দ্রকোণা পুরসভার গোঁসাইবাজারে প্রচার করছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই। চন্দ্রকোণা কলেজ থেকে মিছিল শুরু হয়ে কলেজ রোড হয়ে গোঁসাইবাজার এলাকায় পৌঁছয় মিছিল। সেখানে দোকানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোট চাইছিলেন প্রার্থী। ওই এলাকায় রাজ্য সড়কের পাশেই রয়েছে বিজেপি নেতা রাজীব পালের একটি দোকান। ২০১৮–২১ পর্যন্ত বিজেপির চন্দ্রকোণা-২ মণ্ডল সভাপতি ছিলেন রাজীব। ২১–এর বিধানসভা ভোটে চন্দ্রকোণা বিধানসভায় দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টও ছিলেন তিনি। এ বারের নির্বাচনেও বিজেপির বিধানসভা নির্বাচন কমিটিতে আছেন।
গোঁসাইবাজার এলাকায় প্রচারের সময়ে সটান রাজীবের দোকানে ঢুকে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত। রাজীবের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। বিজেপি নেতার দোকানে তৃণমূল প্রার্থীকে ঢুকতে দেখে অনেকেই অবাক হন। রাজীবের পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী বলছেন, ‘সবাই জানে এটা বিজেপি নেতা রাজীবের দোকান। রাস্তার মিছিল থেকে হঠাৎ তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দোকানে ঢুকে পড়ায় ভাবলাম, কী হলো? পরে জানলাম ওঁর কাছেও ভোট চাইতে গিয়েছিলেন। দু’জনকেই হাসিমুখে দেখে ভালো লাগল। এটাই তো হওয়া উচিত।’
তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত বলেন, ‘বিজেপি নেতা সে সময়ে দোকানে ছিলেন দেখে তাঁর কাছে গিয়ে আশীর্বাদ চেয়েছি, ভোটও চেয়েছি। সৌজন্যের রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি।’ বিজেপি নেতা রাজীব বলেন, ‘আমার কাছে ভোট চাইতে এসেছিলেন উনি। প্রত্যেক প্রার্থীই ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যেতে পারেন। এতে এত জল্পনার কিছু নেই। উনি সৌজন্য দেখিয়ে ভোট চেয়েছেন,আমিও ওঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
চন্দ্রকোণার বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত দোলই বলছেন, ‘আমরাও চাই, সকলে সৌজন্যের রাজনীতি করুন। কিন্তু খালি ভোট চাওয়ার সময়ে সৌজন্য দেখালে হবে না। এই সৌজন্য ভোটের সময়ে ও ভোটের পরেও যেন বজায় থাকে। আর ভোটের দিন যেন গনতান্ত্রিক ভাবে ভোটটা হয়। না হলে এ সব লোক দেখানো, ছবি তোলার রাজনীতি বলেই মনে হবে।’