এই সময়: রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ওঁরা। অভিযোগ, সেই সুযোগে বুলডোজ়ারে ভেঙে দেওয়া হয় তাঁদের ঝুপড়ি। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয় কয়েক জনকে। শিলিগুড়ির সন্তোষীনগরের নতুন পাড়ার ঘটনা। শুক্রবার রাতের ঝড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অল্পবিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ফসল।
শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের পাশে নতুনপাড়া। হাইড্রেনের উপরে ১০-১২টি ঝুপড়ি ঘর ছিল। সেখানে থাকার পাশাপাশি দোকানও চালাতেন কয়েক জন। অভিযোগ, এগুলো না জানিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানকার বাসিন্দা প্রিয়া সাহানি বলেন, 'আমি ও আরও কয়েক জন রামনবমীর শোভাযাত্রায় গিয়েছিলাম। কেউ কেউ কাজের জন্য ছিলেন অন্যত্র। হঠাৎ দুপুরে বুলডোজ়ার চালিয়ে দোকান এবং ঘরগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। এর পরে রাতে নামে বৃষ্টি। কোনও রকমে প্লাস্টিক ও ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাতে হয় এই ঝুপড়ি ঘরের বাসিন্দাদের। শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক, বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ ও সিপিএম প্রার্থী জয় চক্রবর্তী নতুনপাড়ায় যান। শঙ্কর বলেন, 'পূর্ত দপ্তর, পুরসভা না অন্য কোনও বিভাগ বুলডোজ়ার চালিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বিনা নোটিসে ঘর কেন ভাঙবে, কেন বুলডোজ়ার চালাবে?' সূত্রের খবর, ওই এলাকায় একটি বড় মাপের হাইড্রেন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। সেই মতো বেশ কিছু জায়গা খোঁড়া হয়েছে। তবে বুলডোজ়ার চালানোর বিষয়টি প্রশাসনের কোনও দপ্তর থেকে স্বীকার করা হয়নি। এ বিষয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এই ঘটনা নিয়ে আমার কিছু জানা নেই।'
ময়নাগুড়ি ব্লকের হাসপাতাল পাড়া, পেটকাটি, শহিদগড়, দেবীনগরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতাল পাড়ার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজেন বর্মনের একমাত্র ঘরটি ভেঙে যায়। শহিদগড়ে মিনতি রায়ের ঘর ভেঙে যায়। ময়নাগুড়ি-লাটাগুড়িগামী জাতীয় সড়কের দুই প্রান্তের অসংখ্য বড় গাছ উপড়ে যায়। এতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। আলু ও ভুট্টা চাষে ক্ষতি হয়েছে। কৃষক রতন সরকার বলেন, 'কয়েক দিন আগে ঝড়ে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এখনও জমিতে বিঘের পর বিঘে আলু পড়ে আছে। ঝড়ে ফের ক্ষতি হয়েছে।'
ময়নাগুড়ি ব্লকের বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ বিঘেয় বেগুন চাষ হয়েছে। বটতলারহাট, ভাতিরবাড়ি, মল্লিকবাড়ির খেতে এক হাঁটু সমান জল। পাম্প করে জল বার করলেও লাভ হবে না বলে দাবি কৃষক অনিমেষ রায়ের। কৃষক বিপুল রায় বলেন, 'রোদ উঠলেই এ সব গাছ মরে যাবে। ফসল তোলা মুশকিল হবে।' ময়নাগুড়ি ব্লক কৃষি আধিকারি কমলেশ বর্মন বলেন, 'জমা জল খুব তাড়াতাড়ি বার করার সঙ্গে গাছ যাতে না মরে, সে জন্য ওষুধ স্প্রে করতে হবে।'
কৃষিতে ক্ষতির একই ছবি মালদায়। আমের জন্য কিছুটা ভালো হলেও লিচুর মুকুলে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মালদার কালিয়াচক ১, ২ এবং ৩ নম্বর ব্লকে বিপুল পরিমাণে লিচু চাষ হয়। কালিয়াচক ১ ব্লকের আলিপুর এলাকার লিচু চাষি হেফজুল শেখ, মতিউর রহমান বলেন, 'লিচুর ফলন দেরিতে হয়ে থাকে। এখন কেবল মুকুল ধরেছে। কিন্তু যেভাবে ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে, তাতে বহু বাগানের মুকুল ঝরে পড়েছে।' আলু, ভুট্টা চাষ এখানেও ক্ষতির মুখে পড়েছে। চাঁচল মহকুমার রতুয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার একাংশ ভুট্টাচাষিদের বক্তব্য, ঝড়-বৃষ্টিতে ভুট্টা নুইয়ে পড়েছে। জলে ভিজে ফলনে ক্ষতি হয়েছে। উদ্যানপালন দপ্তরের জেলা উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক বলেন, 'ঝড়ে লিচুর মুকুল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হবে না।' জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় আলু, ভুট্টা-সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট ব্লক প্রশাসনগুলির কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।'