তৃণমূলের পার্টি অফিসে ঢুকে ক্যারাম খেলছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর তিন জওয়ান। সিউড়ির জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের সেই ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) ভাইরাল হয়। তিন জনকেই দায়িত্ব থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ।
ভোট ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই জেলায় জেলায় রুটমার্চ শুরু বাহিনীর। প্রতিবারই ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাংশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই এ বার প্রথম থেকেই কড়া অবস্থানে কমিশন।
কিছু দিন আগেই মুর্শিদাবাদে একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ায় সাত জওয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়, ডিউটিরত অবস্থায় কোনও রকম আতিথেয়তা বা সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে প্যারামিলিটারি বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়, বাকি পাঁচ জনকে রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে আবার তৃণমূলের পার্টি অফিসে ঢুকে ক্যারাম খেলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সিউড়ি বিধানসভার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শনিবারই এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ ভীত-সন্ত্রস্ত ভোটারদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁরা তা না করে তৃণমূল পার্টি অফিসের ভিতরে ক্যারাম খেলছেন। আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’
যদিও বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ের যুক্তি ছিল, ‘আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ওই জায়গাকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ভেবেছেন, তাই সেখানে ক্যারাম খেলছিলেন।’
এই নিয়ে তরজা যখন তুঙ্গে তখন তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করে কমিশন আরও একবার কড়া বার্তা দিল— কোনও রকম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে, তা বরদাস্ত করা হবে না।