ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের নেশা থাকলে চলবে না, রিল বানানোর নেশা রয়েছে, তা হলে পাত্রী হিসেবে ‘নন এলিজেবল’— সংবাদপত্রের ‘পাত্র-পাত্রী’ চাই বিভাগে এ হেন আবদার হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু, পোস্টার ছাপিয়ে মেস ভাড়া দেওয়ার অদ্ভুত শর্ত দেখে অনেকেরই চোখ কপালে! সমাজমাধ্যমে সেই পোস্টারের ট্রেন্ডিং স্রোতে গা ভাসিয়েছেন নেটিজেনরা। এই পোস্টার সত্যিই কোথাও সাঁটানো হয়েছে? নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় শান দিয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা অর্থাৎ ডিজিটাল ভাষায় ‘শেয়ার’, ‘রিচ’ বাড়ানোর কৌশল? খোঁজ নিয়ে দেখল এই সময় অনলাইন।
প্রথমে দেখা যাক, যে পোস্টারের ছবি ফেসবুকে গণহারে শেয়ার হচ্ছে বা হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি হচ্ছে— তার বিষয়বস্তু কী? বিজ্ঞাপনদাতা ভাড়াটে খুঁজছেন। কিন্তু মেস ভাড়া নেবেন কে? বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে— ‘আপনি কি বামপন্থী স্বামী? ডানপন্থী বৌদিকে নিয়ে অতিষ্ঠ? বৌ দিয়েছে ঠেস? আপনার ঠিকানা হোক, দেবাশিস দার মেস।’ উপভোক্তা কী কী পরিষেবা পাবেন, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আমাদের মেসে পাবেন ঘরোয়া খাবার: যেন মায়ের হাতের রান্না। শান্তিতে ঘুম/ রাত জাগার স্বাধীনতা, গল্প আড্ডা বাওয়াল দেওয়ার সাথী।’ এর পরে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর ও ঠিকানা। বিশেষ দ্রষ্টব্য সংক্রান্ত বার্তাতেও রয়েছে রসের ছোঁয়া। লেখা হয়েছে— ‘আমাদের কোনও শাখা নেই, বিশাখাও নেই।’
তবে এই পোস্টার কি আদৌ কোথাও দেওয়া হয়েছে? পোস্টারের নীচে যে ঠিকানা দেওয়া তা হলো— শান্তি লেন, বন্ধুনগর, রায়গঞ্জ। বিজ্ঞাপনে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে এমন কোনও জায়গা বাস্তবে নেই। রায়গঞ্জ শহর ছাড়াও কর্ণজোড়া ও বোগ্রাম এলাকায় এই ধরনের মেস বা উল্লেখিত ঠিকানা বাস্তবে নেই বলেই জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি কেউই।
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ সরকার, নিতাই ঘোষ, বাদল গোস্বামী বলেন, ‘এই ধরনের ঠিকানা বা এই নামে কোনও মেস আমাদের এখানে নেই। গোটা রায়গঞ্জেই এই ধরনের জায়গার নাম কোনওদিন নাম শুনিনি। বিজ্ঞপ্তিটা ভুয়ো বলেই মনে হচ্ছে।’ এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান প্রশান্ত দাস বলেন, ‘এই এলাকায় এই নামে কোনও জায়গা নেই। পাশাপাশি এই নামে কোনও মেসও নেই। ঠিকানাও ভুল দেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে এই সময় অনলাইনকে রায়গঞ্জ পুরসভার পুর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিটা আমিও দেখেছি। এই ধরনের কোনও জায়গা রায়গঞ্জ শহরে নেই। সাধারণ মানুষ যেন এই ধরনের ভুল বিজ্ঞপ্তিকে বিশ্বাস না করে।’ অনেকে বলছেন, ‘এ ভাবে ভুল বার্তা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।’ আবার অনেকের বক্তব্য, ‘ভোটের বাজারে বামপন্থী স্বামী, ডানপন্থী স্ত্রী-র সাংসারিক ঝঞ্ঝাটকে সাঙ্গ করে মেস ভাড়া দেওয়ার এই রকম রসাল বিজ্ঞাপন দেখে বহু মানুষ মজা পেয়েছেন, তাতে ক্ষতি কী!’
রিপোর্টিং: নীলাঞ্জন দাস