• ‘আমি কিন্তু ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি’, দলের জার্সি পরে হুমায়ুনকে সাহায্য? নওদার সভায় সতর্কবাণী অভিষেকের
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • কেবিজেপি ও কংগ্রেসের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রতিপক্ষ হয়েছে হুমায়ুন কবীরের ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’। তৃণমূলে থেকেও অনেক কর্মী, বুথ স্তরের নেতৃত্ব হুমায়ুনের দলকে সাহায্য করছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মুর্শিদাবাদের নওদায় দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারসভায় সেই সব কর্মী, নেতৃত্বকে সাবধানবাণী অভিষেকের। পাশাপাশি সাফ জানিয়ে দেন, কোথাও যদি মনে হয় প্রার্থীর সঙ্গে মনোমালিন্য রয়েছে, সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে বলেন, নওদায় তিনিই প্রার্থী।

    ‘দু-মুখো’ রাজনীতিকে কোনওভাবেই দল প্রশ্রয় দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘যাঁরা যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে একমাস পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে করে দেবে, বাকি জীবনটা আর মাঠে ঢুকতে পারবেন না।’

    এ দিন সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছনোর আগেই সভায় বিশৃঙ্খলা ছড়ায়। নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি মোশারফ হোসেন ওরফে মধু বনাম তৃণমূলের নওদা ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখ ওরফে হাবিবের সম্পর্ক ‘মধুর’ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। অভিযোগ, এ দিন সভা মঞ্চের চেয়ার দখল করে মোশারফ হোসেনের অনুগামীরা চেয়ার দখল করে বসে থাকায় চটে যান হাবিব অনুগামীরা। ওই মোশারফ অনুগামীদের জোর করে উঠিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে সামনে এসেছে।

    তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে এ দিনের সভায় অভিষেকের কড়া বার্তা, ‘আমার সবার উপরে নজর আছে। যদি কেউ ভাবেন, বিশৃঙ্খলা করবেন দলকে চাপে রাখার জন্য, দল তাঁকে ক্ষমা করবে না। আমি কিন্তু ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ-অপছন্দের কোনও বিষয় নেই।’ অভিষেকের নিশানায় ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী ও নতুন দলের নেতা হুমায়ুন আহমেদ। অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি মুর্শিদাবাদ জিততে তিনটে এজেন্ট পাঠিয়েছে। প্রথমজন অধীররঞ্জন চৌধুরী, দ্বিতীয় হুমায়ুন কবীর এবং তৃতীয় হচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার (মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার)।’

    উল্লেখ্য, এই নওদা কেন্দ্র থেকে এ বার নির্বাচনে লড়বেন হুমায়ুন কবীর নিজে। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সাহিনা মমতাজ। তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচনের আগে দ্বন্দ্ব ভুলে লড়াইয়ে নামার কথা জানান অভিষেক। তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘যদিও প্রার্থী নিয়ে কোনও সমস্যা হয়, আপনি ধরে নেবেন মুর্শিদাবাদের নওদা থেকে আপনাদের প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে দেখে ভোট দেবেন। এই লড়াই বাংলার কৃষ্টি, অধিকার রক্ষা করার লড়াই।’

    জেলার কিছু নেতা শুরুতে হুমায়ুনের সঙ্গে থাকলেও ধীরে ধীরে তাঁরা মুখ ফেরাচ্ছেন বলেও দাবি করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘গত ডিসেম্বর মাসে যখন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, তখন বলেছিলেন কেন মসজিদ করবে না? হুমায়ুনের পক্ষ নিয়ে সওয়াল করেছিলেন। গত দু’মাসে হুমায়ুনের চাল-চলন, মুখের ভাষা, ব্যবহার দেখে মনে করেছে, হুমায়ুনকে সমর্থন করা আর খাল কেটে কুমির আনা এক ব্যাপার।’

  • Link to this news (এই সময়)