আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রচারে তৃণমূলের 'সেকেন্ড-ইন কমান্ড'-এর মুখে দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ। রবিবার মুর্শিদাবাদের নওদায় প্রচার-সভা করেন ঘাস-ফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানেই অভিষেক ব্যানার্জির ভাষণে উঠে আসে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টি। দলীয় নেতা, কর্মীদের সতর্ক করে অভিষেক জানিয়ে দেয়, তিনি সকলের উপর নজর রাখছেন। বলেন, "আপনি যদি কোনও একটি দলের জার্সি গায়ে দেন, তবে সেই দলের প্রতিই অনুগত থাকুন; অন্য কোনও দলের হয়ে খেলবেন না। তাহলে ম্যাচের (নির্বাচনের) পর আমরা আপনাদের ‘রেড কার্ড’ দেখাব এবং বিদায়ের পথ দেখিয়ে দেব।"
কী বলেছেন অভিষেক? এ দিন নওদায় অভিষেকের সভায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সভামঞ্চের সামনেই প্রবল বিক্ষোভ চলে, হয় চেয়ার ভাঙচুর। লণ্ডভণ্ড অবস্থা হয় সভার একাংশের। টিকিট না পাওয়ায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখের অনুগামীরা এই বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। এবার, নওদা বিধানসভা থেকে জোড়-ফুল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ। এদিন তাঁকে উদ্দেশ্য করেও ব্লক সভাপতির অনুগামীরা ক্ষোভ উগরে দেন।
এসেব পরই মঞ্চে ওঠেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বিষয়টি গোপন ছিল না তাঁর কাছে। ফলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, "যে যাখানে দলীয় প্রার্থী তাঁকেই সকলকে সমর্থন করতে হবে। আগে ভোট জিততে হবে। তারপর ঘরোয়া ক্ষোভ বিক্ষোভ তুলে ধরবেন।" অভিষেকের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, "আমি সবার ওপরই নজর রাখছি। এটাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই গণ্য করবেন। আপনি যদি কোনও একটি দলের জার্সি গায়ে দেন, তবে সেই দলের প্রতিই অনুগত থাকুন; অন্য কোনও দলের হয়ে খেলবেন না। আমরা নিশ্চিতভাবেই জয়লাভ করব - আর ম্যাচের (নির্বাচনের) পর আমরা আপনাদের ‘রেড কার্ড’ দেখাব এবং বিদায়ের পথ দেখিয়ে দেব। আর জীবনে মাঠে ঢুকতে পারবেন না।"
পাশাপাশি বলেন, "নওদার প্রার্থী ফছন্দ না হলে ধরে নেবেন একানে প্রার্থী অভিষেক ব্যানার্জি। জোড়া-ফুল প্রতীক দেখে ভোট দেবেন"
অর্থাৎ, প্রার্থী কে হবে তা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব যে তৃণমূল নেতৃত্বেরই তা সাফ জানিয়ে দিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। স্পষ্ট করে দিলেন ভোটের মুখে দলীয় বিশৃঙ্খলা করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
ভোটার লিস্ট বিভ্রান্তি নিয়ে প্রচারে স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই বিজেপিকে তুলোধনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রান্নার গ্যাসের সংকট ও উদ্বেগ প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন অভিষেক ব্যানার্জি। তুলে ধরেন ১০০ দিন, আবাস যোজনার টাকা-সহ নানা ক্ষেত্রে বাংলার পাওনা আটকে রাখার বিষয়টিও। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন মুর্শিদাবাদ জেলা-সহ বাংলার সর্বত্র মমতা সরকারের একের পর এক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধার কথাও।
বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতি এবং হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির প্রসঙ্গ টেনে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করেন অভিষেক ব্যানার্জি্। বলেন, "বিজেপি বা হুমায়ুন কবীরের দলকে ভোট দেওয়া মানেই বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করা।"