শিলিগুড়ির কুলিপাড়ায় এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনার আগুন জ্বলছিল, অবশেষে তা প্রশমিত হতে চলেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা ওই কিশোরীর গৃহশিক্ষককে শনিবার গভীর রাতে ভিন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গুরুংবস্তি এলাকার বাসিন্দা ওই শিক্ষক ঘটনার পর থেকেই সপরিবারে বেপাত্তা ছিলেন। পুলিশের এই সাফল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃতকে রবিবারই শিলিগুড়িতে আনা হচ্ছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আদালতে পেশ করার তোড়জোড় শুরু করেছে প্রশাসন।
গত সোমবার কুলিপাড়ার ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, দুই সন্তানের জনক ওই বিবাহিত গৃহশিক্ষকের সঙ্গে কিশোরীর এক অসম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ওই শিক্ষকের বাড়িতেই টিউশন পড়তে যেত নির্যাতিতা। মৃতের পরিবারের দাবি, গৃহশিক্ষকের মানসিক টানাপোড়েন ও প্ররোচনার জেরেই তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের গুরুংবস্তির বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি এমনই ঘোরালো হয়ে উঠেছিল যে, অভিযুক্ত নিজের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়ে চম্পট দিতে বাধ্য হন।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং পরিচিতদের জেরা করে অবশেষে তাঁর আত্মগোপন করার ডেরাটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন কলঙ্কহীন থাকতে চায়, তেমনই এক শিক্ষকের এমন নক্কারজনক আচরণে শিলিগুড়ির শিক্ষা সমাজ লজ্জিত। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে অপরাধীর এই গ্রেপ্তারিতে বিচারের আশায় বুক বাঁধছেন নিহতের পরিজনেরা। শিলিগুড়ি শহরবাসীর ক্ষোভের আগুন দমনে পুলিশের এই তৎপরতা এখন সর্বত্রই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।