জমি জবরদখলের পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের হেনস্থা, অত্যাচার— সন্দেশখালি পর্বে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। রবিবার সন্দেশখালিতে নির্বাচনী সভায় গিয়ে বিজেপির অভিযোগের জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনের সভায় অভিষেক বলেন, ‘সন্দেশখালিকে চক্রান্ত করা হয়েছিল, মহিলাদের কাছে সাদা কাগজ নিয়ে সই করতে বলা হয়েছিল। পরে সেই সাদা কাগজে চিঠি লিখে বিজেপির নেতারা জমা দিয়েছিল শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে। এ কথা আমার নয়। এ কথা তৎকালীন বিজেপির সভাপতি গঙ্গাধর কয়ালের। কোথাও গঙ্গাধর কয়াল? দু’বছরে তাঁকে দেখা গিয়েছে?’
জমি জবরদখল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল গোটা সন্দেশখালি এলাকা জুড়ে। রেশন দুর্নীতি মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। উঠে এসেছিল সন্দেশখালিতে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শেখ শাজাহানের নাম। তদন্তে নেমে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে উঠে আসে জমি জবরদখলের অভিযোগ। এ দিন অভিষেক বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি পরিবার জমি ফেরত পেয়েছেন। কেউ চাষবাস পেয়েছেন, কেউ ভেড়িতে মাছ চাষ করছেন।’
লোকসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালিতে প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বসিরহাট আসন জিতেছিল তৃণমূল। তবে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে সন্দেশখালিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। সেই আসন জয়ের লক্ষ্যে এ বার এই আসনে প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য ঝর্না সর্দারকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূল।
উত্তর ২৪ পরগনার সব আসনের মধ্যে এই কেন্দ্রে সর্বাধিক আসনে জেতার টার্গেট দেন অভিষেক। জনসভায় অভিষেকের বক্তব্য, ‘যে ভাবে মিথ্যা কথা বলে আমাদের অপরাধী বলা হয়েছিল, বসিরহাটের মানুষ জবাব দিয়েছে। ২০২১ সালে সন্দেশখালিতে ১ ও ২ নম্বর ব্লকে সব অঞ্চল মিলিয়ে সুকুমার মাহাতোকে আপনারা ২৯ হাজার ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন। এ বারে সেই ব্যবধান ৫০ হাজার করতে হবে। উত্তর ২৪ পরগনার সবক’টি আসনের মধ্যে সন্দেশখালি ফার্স্ট বয় হবে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’