আরজি করে নির্যাতিতার মা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও হয়েছেন তিনি। এ বার কামদুনি ধর্ষণ কাণ্ডের (Kamduni Incident) অন্যতম প্রতিবাদী মুখ, টুম্পা কয়াল (Tumpa Koyal) যোগ দিলেন পদ্মশিবিরে (BJP)। রবিবার সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। বিজেপিতে যোগ দিয়ে টুম্পা বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ সরকারকে হারাব।’ তবে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
গত ২১ মার্চ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন টুম্পা। বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয় তাঁদের। তখন থেকেই টুম্পার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। অবশেষে রবিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটল। এ দিন টুম্পার সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন উখড়া আদর্শ হিন্দি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রবীণ কুমার সিং এবং আইবি-র অবসরপ্রাপ্ত জয়েন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শর্বরী ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনির এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করেছিল একদল দুষ্কৃতী। একটি ফাঁকা জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাঁর দেহ। ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন গ্রামবাসীরা। শুরু হয়েছিল জোর বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। এই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন দুই গৃহবধূ। টুম্পা তাঁদেরই একজন। অন্য জন মৌসুমি কয়াল।
বর্তমানে নিউটাউনে থাকেন তিনি। তবে কামদুনিতে যাতায়াত রয়েছে তাঁর। এ দিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়ার শপথ নেন টুম্পা। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করেছি বলে খুনের হুমকি দিয়েছে, বাড়ির সামনে বোমা মেরেছে। ২০২৪ সালে আমার স্বামীকেও প্রাণে মারার চেষ্টা হয়। এ বার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়ব। দুর্নীতিবাজ সরকারকে হারাব। তাই বিজেপিতে যোগ দিলাম।’ তবে এ দিন প্রার্থী হওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি টুম্পা। তবে সুযোগ পেলে তিনি মধ্যমগ্রাম থেকে লড়তে চান বলে জানিয়েছেন।