কেতুগ্রামের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টারের (Primary Health Centre in Ketugram, Bardhaman) ছাদের চাঙড় ভেঙে চার মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুর (Child Death) পরে ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও তার মেরামতি হয়নি বলে অভিযোগ। রবিবার বিকেলেও দেখা গেল, সেই ভাঙা অংশ বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটছে মৃত শিশুর পরিবারের। তবে আগামী বুধবার PWD-র কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম।
কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে চার মাসের শিশু প্রিয়দর্শী বেসরাকে নিয়ে থাকেন কাটোয়া পুরসভার অধীনস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট শিবানী সোরেন ও কেতুগ্রামের সীতাহাটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সানু বেসরা। শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে মেঝেতে শুইয়ে কাজ করছিলেন শিবানী। আচমকাই ছাদের একটি চাঙড় ভেঙে পড়ে শিশুর উপরে। গুরুতর জখম হয় প্রিয়দর্শী। বাড়ির লোকেরা তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে হাসপাতালে রওনা হয়। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় তার।
মেয়ের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে আছেন শিবানী। সঙ্গে রয়েছে আতঙ্কও। এই সময় অনলাইন-কে তিনি বলেন, ‘যে ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে, আমরা সেই ঘরেই রয়েছি।’ একই সঙ্গে ভাঙা অংশ এখনও মেরামত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিবানীর কথায়, ‘প্রশাসনের তরফে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কী লাভ!’ শুধু তাই নয়, শিবানীর আরও অভিযোগ, ‘কোয়ার্টারের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। ২০২২ সালে আমরা কাটোয়ার BMOH-কে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও কোনও সুরাহা হয়নি।’
গোটা বিষয়টা স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করলেন পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে। PWD ও সোশ্যাল সেক্টরের ইঞ্জিনিয়ারকেও বলা হয়েছে যত তাড়াতাড়ি কোর্য়াটারটি মেরামত করা যায়। তাঁরা বুধবার আসবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। কোর্য়াটারগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখবেন।’ চার মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশও করেন তিনি।