ফের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) বিরুদ্ধে পক্ষপাতীত্বের অভিযোগ তুলল তৃণমূল (TMC)। এ বার নিশানায় উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক বিবেক কুমার সিং (North Dinajpur District Magistrate)। তাঁর বাবা বীরেন্দ্র কুমার সিং ছিলেন বিজেপির শরিক জেডিইউ-এর প্রাক্তন বিধায়ক এবং সাংসদ। রবিবার দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে বীরেন্দ্র ও বিবেকের ছবি পোস্ট করে তৃণমূল লিখেছে, ‘এই পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল না করলে গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে।’
গত ১৮ মার্চ এক ধাক্কায় ১১ জন জেলাশাসককে বদলি করে দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরও ছিল।
এ দিন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে বীরেন্দ্রর যে ছবিটি পোস্ট করেছে তৃণমূল, তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি সোফায় জেডিইউ সুপ্রিমোর পাশে বসে রয়েছেন তিনি। নীচে বিবেক কুমার সিং। তাঁকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বীরেন্দ্রর পুত্র বিবেককে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক করে পক্ষপাতিত্ব করেছে কমিশন। উল্লেখ্য, বীরেন্দ্র ঔরঙ্গাবাদ কেন্দ্র থেকে ১৯৯৬ সালে সাংসদ হন। পরে ২০১০ সালে নবীননগর কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে জিতেছিলেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে তৃণমূল লিখেছে, ‘বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট, শরিক দলের পারিবারিক সদস্যকে প্রশাসনের শীর্ষে বসিয়ে তারা নির্বাচন প্রভাবিত করার নগ্ন ষড়যন্ত্র করছে। আর নির্বাচন কমিশন বিজেপির আজ্ঞাবহ ভৃত্যে পরিণত হয়ে তাদের এই কাজে মদত দিচ্ছে।’
এর আগে গত ২৪ মার্চ মালদার কমিশন নিযুক্ত পুলিশ অবজ়ার্ভার জয়ন্ত কান্তর বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছিল তৃণমূল। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করা হয়েছিল, ‘জয়ন্ত কান্তর স্ত্রী আসলে বিহারের বিজেপির কর্মী।’ প্রমাণ স্বরূপ তৃণমূল একটি ছবিও তুলে ধরে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন জয়ন্তর স্ত্রী, গলায় বিজেপির উত্তরীয়। আবার একটি ছবিতে তিনি হাতে পোস্টার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় উপস্থিত। এ বার উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের দিকেও এঅনেকটা একই রকমের অভিযোগ করল তৃণমূল।