• বিমানবন্দরের জন্য জমি দিয়ে ১৫ কোটি! কপ্টার কিনলেন নয়ডার কৃষক
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নয়ডা: কেউ কিনছেন আস্ত হেলিকপ্টার, কেউ বন্ধুবান্ধব সঙ্গে নিয়ে থাইল্যন্ড বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাতেও যেন ফুরাচ্ছে না ব্যাংকের টাকা! নয়ডার কয়েকজন কৃষকের বর্তমান অবস্থা খানিকটা এমনই। ভাগ্যবদলের নেপথ্যে নয়ডায় সদ্য তৈরি হওয়া বিমানবন্দর। যে অঞ্চলে এয়ারপোর্ট তৈরি হয়েছে সেখানে একাধিক জমি ছিল এঁদের। এয়ারপোর্ট তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার, বদলে মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এঁরা। তাতেই রাতারাতি বদলেছে জীবনযাপনের ধরন। 

    শনিবার ঘটা করে নয়ডার নতুন এয়ারপোর্ট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতির পাশাপাশি তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। একইসঙ্গে ভাগ্যবদল হয়েছে এলাকার কৃষকদের। সূত্রে খবর, এয়ারপোর্টের জন্য জমি দিয়ে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এক কৃষক। তিনিই হেলিকপ্টার কিনেছেন। অন্যদিকে বছর ২৬-র শিবম প্রজাপতি বিমানবন্দরে ঠিকা শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছেন। রোজগারের নতুন উপায় খুঁজে পেয়ে বেজায় খুশি তিনিও। এলাকার বহু কৃষকের জীবনযাত্রা আমূল বদলে গিয়েছে বলে জানান তিনি। কারও নাম না করে শিবম বলেন, এখানেই অনেকটা জমি ছিল এক কৃষকের। তিনি সরকারের থেকে ১৫ কোটি পেয়েছেন। সেই টাকায় আস্ত হেলিকপ্টার কিনেছেন। শিবম নিজেও দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ করতে থাইল্যান্ড বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কয়েকদিন আগে অবধি কোনোরকমে সংসার চলত স্থানীয় বাসিন্দা অজয় বেনিওয়ালের। বিমানবন্দর তৈরি হওয়ায় তিনিও নতুন রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন। কাজ করতে আসা শ্রমিকরা তাঁর কাছে হেলমেট, গাড়ির চাবি জমা রাখে সারাদিনের জন্য। বদলে কিছু টাকা নেন অজয়। মাসের শেষে অন্তত ৬০হাজার রোজগার হচ্ছে এভাবেই, দাবি তাঁর। অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ভাড়া দিয়ে হাজার হাজার টাকা রোজগার করছেন স্থানীয় কয়েকজন। সবমিলিয়ে নয়ডার নতুন এয়ারপোর্ট রাতারাতি বদলে দিয়েছে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার ধরন। কেউ জমি বেঁচে কোটিপতি হয়েছেন, কেউ নতুন রোজগারের উপায় খুঁজে পেয়েছেন। বিষয়টা নিয়ে ইন্টারনেটেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। সকলের একটাই বক্তব্য, ‘একেই বলে মেঘ না চাইতে জল’!
  • Link to this news (বর্তমান)