• শক্ত ঘাঁটি দিসপুরে বিজেপি শিবিরের ‘কাঁটা’ বিক্ষুব্ধ নেতা
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • দিসপুর: দিন দশেক আগেও লড়াইটা ছিল বিজেপি বনাম কংগ্রেসের। অসমের দিসপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয় কার্যত নিশ্চিত বলেই ধরেই নিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। কারণ, গত দুবারই রাজধানীর এই আসন ছিল পদ্মশিবিরের দখলে। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বদলে গিয়েছে সমীকরণ। প্রথমত, দিসপুরের পাঁচবারের বিধায়ক অতুল বোরাকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। বদলে পদ্ম শিবিরের টিকিট পেয়ে গিয়েছেন প্রদ্যোত্ বরদলোই। যিনি কিছুদিন আগেও ছিলেন কংগ্রেসের সাংসদ। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মাত্র একদিন আগে বিজেপিতে যোগ দেন। আর তারপরেই  ‘নির্দল’ হিসাবে লড়াই করার ঘোষণা করেছেন ‘বিক্ষুব্ধ’ বিজেপি নেতা জয়ন্ত দাস। অপরদিকে, আর হাত শিবিরের হয়ে লড়াই করছেন মীরা বরঠাকুর গোস্বামী। তিনিও ২০২১ সালে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। প্রদ্যোৎকে নিয়ে শুধু জয়ন্ত নয়, বিজেপি অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ। যদিও প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না তাঁরা। তাই ‘বিক্ষুব্ধ’দের চ্যালেঞ্জ সামলে ‘দলবদলু’ প্রার্থীকে জিতিয়ে আনাই এখন চ্যালেঞ্জ বিজেপির। সব মিলিয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ক্রমশ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে রাজধানী শহরে। 

    ১৯৮৫ সালে প্রথমবার দিসপুরের বিধায়ক হন অতুল বোরা। তিনবার তিনি অসম গণ পরিষদের হয়ে ভোটে জিতেছিলেন। ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনি বিজেপি টিকিটে বিধায়ক। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে প্রায় সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, এবারেও ৬৫ বছরের অতুলই টিকিট পাবেন। কিন্তু প্রদ্যোতকে প্রার্থী করতেই অতুল জানিয়ে দেন, তিনি এবার নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। মান ভাঙাতে অতুলের বাড়িতে চলে আসেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এরপর অতুল জানান, তিনি নির্দল প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে, বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারও করবেন না। কিন্তু তারপরই জয়ন্ত দাস জানান, তিনি নির্দল প্রার্থী হবেন। তাঁকেও সম্বিত পাত্র সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জয়ন্তকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিজেপি। ইতিমধ্যেই তিন প্রার্থী জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। 

    শেষ হাসি কে হাসবেন? দিসপুরের বাসিন্দারা মনে করছেন, সকলেরই কম-বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। শাহজাহান কাজি নামে এক বাসিন্দার বক্তব্য, ‘নির্দল প্রার্থী জয়ন্ত দাসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ খুব ভালো। তাই বিজেপি তাঁকে টিকিট না দিয়ে ভুলই করেছে। কংগ্রেস ছেড়ে আসা প্রদ্যোতকে বিজেপির টিকিট দেওয়া উচিত হয়নি।’ শাহজাহানের মতো অনেকেরই মত, দিসপুরে বিজেপির সংগঠন খুব ভালো হলেও প্রদ্যোতের লড়াই সহজ হবে না। কারণ, কংগ্রেস প্রার্থী মীরার ভাবমূর্তিও যথেষ্ট ভালো। জয়ন্ত যদি বিজেপির ভোট কাটতে পারেন, তাহলে কংগ্রেসও জিতে যেতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)