• আরামবাগ বিধানসভা: মাত্র ৩৪ হাজার টাকা পড়ে, দাবি পদ্মের টিকিট না পাওয়া মধুসূদনের
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে আরামবাগ থেকে বিধায়ক হন মধুসূদন বাগ। কিন্তু, এবারের নির্বাচনে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি পদ্ম শিবির। তৃণমূল সহ দলের অন্দরে অভিযোগ ওঠে, মধুসূদনবাবুকে এলাকায় সেভাবে দেখা যায়নি। পিছিয়ে ছিলেন জনসংযোগে। এমনকি, উল্লেখযোগ্য কাজ না করার অভিযোগও তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। যদিও সেসব অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন মধুসূদনবাবু। তাঁর দাবি, নানা বাধা সত্ত্বেও বিধায়ক তহবিলের প্রায় ১০০ শতাংশ টাকা তিনি খরচ করে ফেলেছেন। তহবিলে মাত্র ৩৪ হাজার ৪৮১ টাকা পড়ে আছে। 

    মধুসূদনবাবু জানিয়েছেন, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে পাঁচ বছরে তিনি ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তা দিয়ে তিনি প্রায় ১০০টি প্রকল্প আরামবাগ বিধানসভা এলাকায় রূপায়ণ করেছেন। তিনি তাঁর তহবিল থেকে একাধিক স্কুলে সাইকেল স্ট্যান্ড, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, সীমানা পাঁচিল প্রভৃতি নির্মাণ করিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামে জলের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প বসাতেও অর্থ বরাদ্দ করেছেন। 

    তাঁর আক্ষেপ, আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স, শববাহী সকট, পরিস্রুত পানীয় জলের প্রকল্প করতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, প্রশাসনিক অসহযোগিতায় সেই প্রকল্পগুলির রূপায়ণ সম্ভব হয়নি। থানাতেও পরিস্রুত পানীয় জলের প্রকল্প করতে চেয়েছিলেন। সেটিও করা যায়নি। এরজন্য তিনি চিঠিও দিয়েছিলেন। 

    মধুসূদনবাবু বলেন, কাজ না করা বা জন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। বিধানসভা এলাকার প্রত্যেকটি পাড়ায় ঘুরেছি। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করিনি। তাই নিন্দুকরা এলাকায় খোঁজ নেননি। বিধায়ক তাহবিলের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্প রিপোর্ট জমা করেছিলাম। কিন্তু, প্রশাসনের অসহযোগিতার জন্য মাত্র ৩৪ হাজার টাকা পড়ে রয়েছে। ৯৯. ৮৯ শতাংশ কাজ করে দিয়েছি। প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করতে পারিনি। তৃণমূল সমস্ত ফলক ফেলে দিয়েছে। বিধায়ক হিসাবে কোথাও বিন্দু মাত্র সুবিধা নিইনি। টিকিট দেওয়ার বিষয়টি দলের সিদ্ধান্ত। তা নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে বিজেপির সঙ্গে আছি। এবারের ভোটেও কাজ করছি। 

    আরামবাগ বিধানসভা আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল। তবে এই আসনে লড়াই ত্রিমুখী। বামেরাও নিজেদের ভোট ফেরাতে মাঠে নেমে খাটছে। 

    তৃণমূলের আরামবাগের প্রার্থী মিতা বাগ বলেন, ভোটে জেতার পর বিজেপি বিধায়ককে কেউ দেখতেই পায়নি। তিনি কাজ করলে দল তো তাঁকে ফের টিকিট দিত। কিন্তু, দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীই আরামবাগের কাজ করেছেন। আগামী দিনেও করবেন। 

    সিপিএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিত বলেন, বিধায়ককে আমি চোখে কখনও দেখিনি। তিনি কী কাজ করেছেন জানি না। তাঁর দাবি খতিয়ে দেখতে হবে। মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে হবে। একাধিক রাস্তা অত্যন্ত বেহাল হয়ে রয়েছে। টোটো ঢুকতেও অসুবিধা হচ্ছে। জলের ব্যবস্থা করা দরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)