• ‘সব জায়গায় আমিই প্রার্থী’, মানবাজারে ঘোষণা মমতার
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার: লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনেই কোচবিহার থেকে ক্যানিং প্রার্থীদের হয়ে ভোট প্রচার করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি জায়গায় গিয়ে ঠিক করে দেন দলের রণকৌশল। বেঁধে দিয়ে আসেন বিরোধী বিরোধী সুর। সাধারণ মানুষও দু-হাত তুলে কুর্নিশ জানায় মমতার প্রতিশ্রুতি পূরণের অভ্যাসকে। এবারও যাতে তাঁর ব্যতিক্রম না-হয়, সেই লক্ষ্যে পুরুলিয়ার মানবাজারের সভা থেকে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে তাঁর পরিষ্কার বার্তা, ‘(বিজেপি) আমাদের যতই হুমকি দিক না কেন, আমরা কখনো মাথা নত করব না, আমরা ভাঙব না। আপনার কেন্দ্রের প্রার্থী কে তা ভুলে যান, শুধু মনে রাখবেন যে সব জায়গাতেই আমিই আপনাদের প্রার্থী। একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই আবার বাংলার সরকার গঠন করবে। বিজেপির সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে।’ মানবাজারে তৃণমূলের প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। তাঁকে পাশে নিয়েই এদিন এই বার্তা দেন মমতা।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পর বিজেপি নারদা টেপ প্রকাশ্যে আনার আবহে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের প্রচারসভা থেকে একই উক্তি করতে শোনা গিয়েছিল মমতার মুখে। ফের ১০ বছর পর তাঁর এই উক্তি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ভোটের ময়দানে শনিবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে নির্বাচনি পারদ আরো চড়িয়েছেন বিজেপি নেতা এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পালটা জবাব দিয়ে নাম না করে অমিত শাহের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন মমতা। সুর সপ্তমে চড়িয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল বিজেপির এক নেতা, যিনি হিংসা ছড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, বাংলার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছেন। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধেই চার্জশিট ফাইল করা উচিত। গুজরাতে এত মানুষের মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী ছিলেন। যখন গুজরাতিদের আমেরিকা থেকে শিকল দিয়ে বেঁধে আনা হয়েছিল, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?’

    অমিত শাহের তোলা প্রতিটি অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই বলেই দাবি করেছেন মমতা। কারণ, মমতার কথায়, শাহ দাবি করেছেন ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে তৃণমূল সরকার বাংলার জনবিন্যাস পালটে দিয়েছে! আর এতেই আপত্তি জননেত্রীর। এই দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘ওদের কি কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই? ২০০২ সালে কি আমরা ক্ষমতায় ছিলাম? আমরা ক্ষমতায় এসেছি ২০১১ সালের মে মাসে। ওরা কেবল মিথ্যা বলে এবং শিক্ষাদীক্ষা কিছু নেই।’

    এখানেই শেষ নয়। ২০২১ এর নির্বাচনে বিজেপির কারণেই তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছিল এবং তাঁকে পায়ে প্লাস্টার নিয়ে প্রচারে যেতে হয়েছিল বলে এদিন জানান মমতা। ওইসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, এবার কি তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? মমতার যুক্তি, ‘আগের নির্বাচনেও আপনারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার পায়ে আঘাত দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও, আমি প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে ঘুরেছি। কারণ আমি ভিতর থেকে শক্তিশালী। আমি জানতাম যেকোনো অবস্থাতেই আমাকে আমার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা কি এখন আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে? তা না-হলে এমন কথা বলার মানে কী? তাদের কথাই প্রমাণ করে যে, তারা কিছু একটা চক্রান্ত করছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)