• গদ্দার, বেইমানদের জমানত জব্দ করার ডাক অভিষেকের
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী ও অভিষেক পাল: সন্দেশখালি এবং নওদা: কখনো প্রাপ্য টাকা বন্ধ করে দিচ্ছে। কখনো আবার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলার মানুষকে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি, বাংলার মনীষীদের অপমান করতে ছাড়ছে না। এহেন বিজেপির স্বরূপ উন্মোচন করে সন্দেশখালির মাটি থেকে ২৬-এর ভোট যুদ্ধে বিজেপি প্রার্থীদের জমানাত জব্দ করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনই অভিষেক গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদা। মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে তৃণমূলের সেনাপতির বার্তা, শুধু গদ্দারদের বিতাড়িত করার নির্বাচন এটা নয়। তিনি বলেন, বিজেপি তিন এজেন্টকে পাঠিয়েছে—অধীর চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও নির্বাচন কমিশনার ভ্যানিশ কুমার। তিনি আরো বলেন, মুর্শিদাবাদে এবার ২২টি আসনেই জিততে হবে। না-হলে যাঁরা এবার ভোট দেবেন, তাঁদের নামও বাদ দিয়ে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। 

    সন্দেশখালি থেকে কয়েকবছর আগে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ঘটনার দিনগুলিকে রোমন্থন করেন তৃণমূল সেনাপতি। পরে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়ালের বক্তব্য সামনে আসার পর বিজেপির বাংলা বিরোধী ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায় বলে দাবি তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের। আর তাই অভিষেক আওয়াজ তুললেন, গদ্দার, বেইমান, জমিদারদের জমানত জব্দ করে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। রবিবার সন্দেশখালি বিধানসভার সরবেরিয়া হাইস্কুল মাঠে প্রার্থী ঝর্ণা সরদারের সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক। সভায় উপস্থিত হয়ে নারী সমাজের সব বয়সের উপস্থিতিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিষেক। তাই মঞ্চের মধ্যেই চটি খুলে হাঁটু গেড়ে সন্দেশখালি মাটিকে প্রণাম জানিয়ে মা-বোনেদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। অভিষেক বলেন, এই সন্দেশখালিকে কেন্দ্র করেই একটা সময় গোটা বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। মহিলাদের সম্পর্কে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল ওরা। বাংলাকে কালিমা লিপ্ত করার যে চেষ্টা বিজেপি করেছে তার জবাব দেওয়ার জন্য ভোট বাক্সকে বেছে নিচ্ছেন তৃণমূল সেনাপতি। তাই সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান রেখেছেন, যারা সন্দেশখালি তথা বাংলার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দেবেন। পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী করতে হবে সন্দেশখালির তৃণমূল প্রার্থীকে। অভিষেকের অভিযোগ, সন্দেশখালিতে বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করেছে তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যদিকে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আক্রমণ শানান অভিষেক। বলেন, বাংলার মানুষের টাকা বন্ধ করে টাইট দেবে ভেবেছিল মোদি সরকার। কিন্তু মানুষকে পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে বিজেপিকেই টাইট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিজেপিকে জবাব দেওয়ার পালা আপনাদের। নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলার মানুষকে ক্রীতদাস বানাতে চেয়েছিল। রিমোট কন্ট্রোলে গরিব মানুষদের টাকা বন্ধ করেছিল। সেই টাকা গিয়েছে বিহার গুজরাতে গিয়েছে। ভারতবর্ষে ১৫৫০টি রাজনৈতিক দল আছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই একমাত্র তৃণমূল করছে। নওদার মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, আমি যখন মানুষের ভোটে নির্বাচিত। তখন আমাদের একটাই ধর্ম। মানব সেবার ধর্ম। তিনি আরো বলেন, যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল, তারাই বাবরি তৈরির নামে ভোট চাইছে। এদেরকে একটা ভোট দেওয়া মানে, ঘুরিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। বিভেদ তৈরি করার অক্সিজেন দিচ্ছে বিজেপি।
  • Link to this news (বর্তমান)