• তৃণমূলের ঘাঁটি বেছে পুনর্নির্বাচন করানোর গেরুয়া চক্রান্ত: মমতা
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু ও রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়,মানবাজার ও রাইপুর: টার্গেট বাংলা! সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে একের পর এক বাংলা বিরোধী পদক্ষেপের অভিযোগ আগেই উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। এবার তৃণমূলের ঘাঁটি বেছে বেছে কমিশনকে দিয়ে পুনর্নির্বাচন করানোর ‘চক্রান্ত’ ফাঁস করলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পুরুলিয়ার মানবাজারের সভা থেকে তাঁর হুংকার, ‘কীভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে হয় এবং হিংসা ছড়াতে হয়, বিজেপি শুধু সেটাই জানে। তারা গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিনাশকারী। বিজেপি ভালোই জানে, কেউ ওদের ভোট দেবে না। তাই তৃণমূলের যেখানে যেখানে ভালো ফল হয়, সেখানেই পুনর্নির্বাচন করানোর চক্রান্ত করছে ওরা।’ শুধু তাই নয়, সরাসরি দিল্লি থেকে এসব কলকাঠি নাড়া হচ্ছে বলে প্রকাশ্য জনসভা থেকে সুর সপ্তমে তোলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। সেই সঙ্গে দিল্লির এই ‘গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত’ ভেস্তে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব দেন বাংলার মানুষকেই। 

    কানায় কানায় পরিপূর্ণ মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল মাঠ থেকে বাংলার জনগণের উদ্দেশে জননেত্রী মমতার আহ্বান, ‘ওরা আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আমার কাছে আছে শুধু মানুষের শক্তি। ব্যালট বাক্সে মানুষ এর প্রতিশোধ নেবে। ওদের কোনো চক্রান্তই সফল হতে দেবে না বাংলার মানুষ। মা-বোনেদের বলব, বাংলাকে বাঁচাতে প্রয়োজনে পাহারা দিতে হবে,  যাতে ওরা ব্যালট বাক্সে কিছু করতে না পারে।’ 

    তৃণমূলের দাবি, কমিশনের একটি সিদ্ধান্তে পুনর্নির্বাচন নিয়ে এই চক্রান্তের আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। কমিশন জানিয়েছে, কোনো বুথে এপিক কার্ড ছাড়া কমিশনের স্বীকৃত অন্যান্য পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোট ২৫ শতাংশ ছাড়ালেই সেই বুথে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। কয়েকদিন আগের এই সিদ্ধান্তে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এদিন তাতেই সিলমোহর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পুনর্নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে বিজেপি-কমিশন? 

    পুরুলিয়ার মানবাজার ও বাঁকুড়ার রাইপুর। জঙ্গলমহলের এই দুই জায়গায় এদিন চৈত্রের চড়া রোদ উপেক্ষা করে ভিড় উপচে পড়ে মমতার সভায়। এক সময়ের মাওবাদী অধ্যুষিত ও হিংসাদীর্ণ জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়েছেন মমতা। সুনিশ্চিত করেছেন সার্বিক উন্নয়ন। সেই কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকেই এদিন মমতার সভায় তাঁরা ভিড় জমিয়েছিলেন বলে অকপটে স্বীকার করলেন মলিনা কিস্কু, দেবতোষ হেমব্রমরা। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির জয়জয়কার হয়েছিল জঙ্গলমহলে। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয় তাদের। ২০২১-এর বিধানসভা এবং ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে মমতার ঝুলি ভর্তি করে দিয়েছে শাল-পিয়ালের ছায়ায় দিন গুজরান করা মানুষগুলি। তবে এবারের লড়াই ভোটাধিকার রক্ষার। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষণা, ‘বিজেপি দেশ বিক্রি করে দিয়েছে। তারা প্রতিটি নির্বাচনের আগে মিথ্যা বলে। আজ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দাম আকাশছোঁয়া। তারা সংবিধান বা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নির্বাচনের ঠিক আগে এসআইআর করে ভোট কেটে দিয়েছে। যেসব নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আমরা ক্যাম্প করব। আইনি সহায়তা দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব আমরা।’
  • Link to this news (বর্তমান)