রেশনে অন্ত্যোদয় কার্ডে চিনি নিয়ে অনিশ্চয়তা, মার্চের পর বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ জায়গায় বিধানসভার ভোট চলাকালে কি দেশে রেশনে পাঁচ কোটির অধিক গরিব মানুষকে সস্তায় চিনি দেওয়া বন্ধ করল মোদি সরকার? উঠেছে সেই প্রশ্ন। কারণ এখনো পর্যন্ত ৩১ মার্চের পর চিনির কোনো বরাদ্দ করা হয়নি। রাজ্য খাদ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে রয়েছে, ভরতুকিতে চিনি সরবরাহের বিষয়টি ৩১ মার্চের পর কেন্দ্র বাড়ায়নি। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু রবিবার জানান, এতে তাঁরা উদ্বিগ্ন। রেশনে চিনি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে খাদ্যমন্ত্রকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু দিল্লির জবাব এখনো মেলেনি।
রেশনের অন্ত্যোদয় শ্রেণিকে এতদিন পরিবার পিছু মাসে এক কেজি করে সস্তায় (সাড়ে ১৩ টাকা) চিনি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রকল্পটি ২০১৩ সালে চালু হওয়ার পর থেকেই চিনি দেওয়া হচ্ছে। খোলাবাজারে চিনির দাম ইতিমধ্যে অনেকটা বাড়লেও রেশনের দামটি অপরিবর্তিত। কেন্দ্র প্রতি কেজিতে আগে সাড়ে ১৮ টাকা ভরতুকি দিত। ভরতুকির অঙ্ক পরে বেড়েছে। ভরতুকির টাকা সুগার মিলগুলিকে সরাসরি দেওয়া হত।
গোটা দেশে অন্ত্যোদয় সুবিধা প্রাপক ৫ কোটির বেশি। সংখ্যাটি পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৫ লক্ষ। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পে কী দামে ও কতটা পরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়া হবে, সংশ্লিষ্ট আইনে তার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে চাল-গম বা মোটা দানাশস্য দেওয়ার কথা শুধু বলা আছে। চিনির কোনো উল্লেখ নেই। যদিও প্রথম থেকেই চিনি দেওয়া হয়েছে। এই আইনকে হাতিয়ার করেই কি চিনি বণ্টন বন্ধ করা হল? সেই প্রশ্ন উঠছে। যদিও আইনে বলা আছে, কেন্দ্রীয় সরকার ৩ টাকা কেজি দরে চাল ও ২ টাকা কেজি দরে গম এবং ১ টাকা কেজি দরে মোটা দানাশস্য দেবে। কিন্তু মোদি সরকার আইনে কোনো পরিবর্তন না করে করোনাকাল থেকে বিনামূল্যে চাল-গম প্রভৃতি দেয়।