নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের জন্য আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। অথচ এখনো পর্যন্ত সব আসনে প্রার্থী দিতে পারল না প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তিন দফায় এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিজেপি দিল্লি থেকে ২৭৫টি কেন্দ্রের জন্য পদ্মচিহ্ন প্রাপকদের নাম প্রকাশ করেছে। ঝুলে রয়েছে ১৯টি কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থীদের নামের তালিকা। এনিয়ে বঙ্গ বিজেপিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কেননা, প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস ভোট ঘোষণার একদিন পরেই ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। স্বভাবতই ভোটের ময়দানে টক্কর দেওয়ার লড়াইতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে গেরুয়া পার্টি। অন্তত বিজেপির অভ্যন্তরে এমনটাই চর্চা শুরু হয়েছে। অঘোষিত কেন্দ্রগুলিতে পার্টির তরফে প্রচার শুরু করা যাচ্ছে না। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ এলাকার নেতাদের মধ্যে কে টিকিট পাবেন, তা নিয়েই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার শহরে হাজির ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে ১৯টি কেন্দ্রের সম্ভাব্য নামের তালিকা নিয়ে নিউটাউনের হোটেলে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী নিয়ে বিস্তর মতান্তর সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রে অসংরক্ষিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। চূড়ান্ত অপেশাদার এই কাজের জন্য ভুগতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও সমর্থকদের। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা নিয়ে বাড়তি সতর্ক কেন্দ্রীয় শাসক দল। অন্যদিকে, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে সর্বত্র প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট কেন্দ্রের নামের তালিকা প্রকাশের পর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা আগাম আঁচ করে ক্ষোভ প্রশোমনে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিবিধ কারণে বাকি কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে বলে মত, খোদ বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের। সামগ্রিকভাবে যা নির্বাচনি লড়াইতে বিজেপিকে খানিক পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।