• নেত্রীর গড়ে প্রচারে ঝড় সেনাপতি ববির
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • অর্ক দে, কলকাতা: ‘আপনি আবার এসেছেন কেন! আমরা তো দিদির সঙ্গেই আছি। সারা বছর আপনাকে পাচ্ছি। নতুন করে আর আমাদের কিছু বলতে হবে না।’ বাড়ির দরজায় স্বয়ং মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দেখে হাসিমুখে এই কথাই বললেন চেতলার মহেশ দত্ত লেনের এক প্রবীণ ভোটার। পার্শ্ববর্তী ধানকল মাঠ এলাকার একাধিক বাসিন্দাও একইভাবে আশ্বস্ত করলেন তাঁকে। নমস্কার জানিয়ে তাঁদের হাতে প্রচারপত্র তুলে দিলেন ফিরহাদ। চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফিরহাদ। নিজে লড়ছেন কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। কিন্তু তাঁর ৮২ নম্বর ওয়ার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই গুরুদায়িত্ব বর্তায় মমতার অনুগত সৈনিক ববির উপর। তাই এবার তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের থেকেও বেশি সময় দিচ্ছেন ভবানীপুরে। চেতলা অঞ্চলের অলিগলি ঘুরছেন। কোনো বাড়ি বাদ রাখছেন না। গত এক সপ্তাহে নিজের ওয়ার্ড কার্যত চষে ফেলেছেন তিনি। রবিবাসরীয় সকালেও চেতলার একাধিক অঞ্চলে জনসংযোগ সারেন ফিরহাদ। বিকালে যান নিজের প্রচারে বন্দর বিধানসভায়। সেখানকার ৭৫ ও ৭৬ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ সারেন। প্রচার চালান হনুমান মন্দির, দইঘাট অঞ্চলে। 

    সেই অর্থে রবিবারই প্রথম বন্দর বিধানসভায় প্রচারে গিয়েছিলেন ববি। এর আগে অবশ্য বন্দরে কর্মিসভা সেরেছেন। তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ভবানীপুরের ‘দেখভাল’-এর দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই প্রচারের প্রাথমিক পর্বে সেই কাজেই ব্রতী ববি। ভোট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই অবশ্য  চেতলা অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে গিয়েছেন ফিরহাদ। ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ বিলি করেছেন। সঙ্গে নিয়েছেন তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে। মাঠে-ময়দানে প্রচারে, জনসংযোগে ববি এগিয়ে দিচ্ছেন মেয়েকে। গোটা ভবানীপুর তল্লাটই মেয়রের নখদর্পণে। সেই ছাত্রাবস্থা থেকে ভবানীপুরই তাঁর রাজনীতির আঙিনা। তাই মমতা ভবানীপুরে ববিকেই করেছেন ভোটযুদ্ধের সেনাপতি! 

    ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসের চেনা মাঠ হলেও এবারের লড়াইকে ঘাসফুল শিবির হালকাভাবে নিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের কারণে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। আরও ১৪ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ ‘বিচারাধীন’। এই আবহে সম্প্রতি মমতা নিজেই একটি কর্মসূচিতে বলেছেন, ‘এক ভোটে হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব।’ সম্প্রতি মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের কর্মী সম্মেলনে গিয়েছিলেন। এলাকার সর্বস্তরের তৃণমূল কর্মীরাও ময়দানে নেমেছেন। এখানে ভোট পরিচালনায় দায়িত্বে রাখা হয়েছে ফিরহাদ হাকিম এবং প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সিকে।

    গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই বিধানসভায় ঘাসফুল শিবির এগিয়ে থাকলেও আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতে পিছিয়ে ছিল জোড়াফুল। ‘লিড’ এসেছিল ৮২, ৭৭ ও মমতার নিজের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। কিন্তু এবার অভিষেক এই কেন্দ্রে ৫০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন। সেই ‘টার্গেট’ পূরণে নিয়ম করে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন ববি। দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলারদেরও। ভবানীপুরের জন্য তৈরি হয়েছে পৃথক প্রচার-স্লোগান। কোথাও লেখা, ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে/ ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। কোথাও আবার ‘ভবানীপুরের অঙ্গীকার/আমাদের দিদি বারবার’। এসব স্লোগান লেখা লিফলেট, উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড  হাতেই দোরে দোরে ঘুরছেন নেত্রীর আস্থাভাজন ববি।
  • Link to this news (বর্তমান)