প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি প্রার্থীর, ক্ষমতায় এলে ‘এনকাউন্টার’-এর নিদান, উত্তর হাওড়ায় পালটা আক্রমণ তৃণমূলের
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কার্যত ‘এনকাউন্টার’ তত্ত্বে শান দিয়ে লাগাতার বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাইয়ের বিরুদ্ধে। ‘সকালে ধরব, বিকেলে খতম করব’— নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে এই ভাষাতেই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশের ‘মডেল যোগী রাজ্য’ অনুসরণ করার নিদানও দিচ্ছেন তিনি। প্রার্থীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনায় কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৫ হাজার ৫২২ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন উমেশ রাই। সেই হারকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে আরও আগ্রাসী মেজাজে ময়দানে নেমেছেন তিনি। উত্তর হাওড়ার বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, দুষ্কৃতীরাজ এবং এসআইআরে হাজার হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী। বিশেষ করে হিন্দিভাষী অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে গিয়ে ঝাঁঝালো ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সামনে ‘মডেল যোগী রাজ্যের’ স্বপ্নও দেখাচ্ছেন। প্রচারে একাধিক জায়গায় তিনি স্পষ্ট বলছেন, ‘এই রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। উত্তর হাওড়া দুষ্কৃতীদের আঁতুরঘর হয়ে উঠেছে। মহিলারা ঘর থেকে বের হতে ভয় পান। আমরা ক্ষমতায় এলে এসব একদিনে সাফ করে দেব। সকালে ধরব, বিকেলে গুলি করে খতম করব।’ এই মন্তব্যকে ঘিরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে এ ধরনের ‘এনকাউন্টার’-এর মানসিকতা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুধু শাসকদল নয়, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকেও একযোগে আক্রমণ করেছেন উমেশ রাই। তাঁর অভিযোগ, ‘এই রাজ্যে পুলিশ প্রশাসন বলে কিছু নেই। তৃণমূল গুন্ডাবাহিনী ও পুলিশকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে।’ উদাহরণ টেনে বলেন, ‘উত্তর হাওড়ায় শ্যুটআউট তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’ এই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, ক্ষমতায় এলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে পরিচালিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরাজিত প্রার্থী উমেশ রাইকেই ফের প্রার্থী করায় প্রথমদিকে বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর এই ঝাঁঝালো ও বিতর্কিত বক্তব্যে সেই কর্মীদের একাংশের মনোবল বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। এদিকে, এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। প্রার্থী গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি এখন বিচার ব্যবস্থারও ঊর্ধ্বে। এখানে কোনো ঘটনা ঘটলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। এই নজির উত্তরপ্রদেশ কিংবা বিহারে নেই। এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত।’ নির্বাচনের মুখে আইনব্যবস্থা নিয়ে এমন নিদান যে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। উত্তর হাওড়ার ময়দানে এখন তাই ভোটের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভাষার লড়াইও ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে।