নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ছোটবেলার স্মৃতিতে ফিরলেন বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরা। প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎ রাস্তার ধারে মাঠে ফুটবল দেখে নেমে পড়লেন নিজের কেরামতি দেখাতে। বজবজের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ তরুণ আদক এবং রায়দিঘির তৃণমূল প্রার্থীকে এদিন দেখা গেল পায়ে বল নাচাতে। ঠিক সেভাবেই রবিবাসরীয় প্রচারে সব দলের প্রার্থীরা নিজের সুবিধা মতো ভোটের প্রচার ও প্রস্তুতি সারলেন। এদিকে, শাসনে পিকে ব্যানার্জি রোডে প্রচার চলাকালীন রাস্তায় একটি টোটো উল্টে যায়। উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ পাল। তিনি ও তাঁর দলের কর্মীরা জখম যাত্রীদের বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
কিশোর বয়সে বিকাল হলেই ফুটবল নিয়ে মাঠে যেতেন। চিকিৎসক হয়ে যাওয়ার পর থেকে খেলাধুলো ভুলেই গিয়েছিলেন বজবজের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ তরুণ আদক। রবিবার ভোটপ্রচারে বেরিয়ে এক কিশোরের হাতে ফুটবল দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায় তাঁর। তাই গিয়ে ওই কিশোরের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে আবার ফিরলেন ভোটের ময়দানে।
অন্যদিকে, রায়দিঘির তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডল টোটোয় চেপে নগেন্দ্রপুর এলাকায় প্রচার সারেন। এলাকা ঘুরতে ঘুরতে একটি মাঠে দলীয় কর্মীদের ফুটবল খেলতে দেখে তিনিও নেমে পড়েন মাঠে। খানিকক্ষণ বলে নিয়ে কেরামতি দেখিয়ে আবার ফিরে যান ভোট প্রচারে।
বজবজের তৃণমূল প্রার্থী অশোক দেব এমনিতেই ভোট ঘোষণার আগে থেকে প্রতিদিন এলাকা চষে বেড়ান। এদিন তিনি বজবজে অলিগলি ও পাড়ার ভিতর ঢুকে বৈঠকি আড্ডা দেন। খোস মেজাজেই দেখা যায় তাঁকে। বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআইএমএল প্রার্থী কাজল দত্ত রাস্তায় নেমে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। মহেশমতলায় বিজেপি প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক এবং তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাস এই বিধানসভার ভূমিপুত্র হিসাবেই পরিচিত। দু’জনেই প্রচার সারলেন বিভিন্ন এলাকায়। পিছিয়ে ছিলেন না সিপিএমের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বাম কর্মীরা পতাকা ও তাঁর ছবি নিয়ে প্রচার সারলেন জোরকদমে।
অন্যদিকে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ফুলতলার চাণক্যপুরীতে তৃণমূলের কর্মি সম্মেলন হয়। সেখানে প্রার্থী বিভাস সর্দার ছাড়াও মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল, সাংসদ সায়নী ঘোষ, বাম থেকে তৃণমূলে আসা প্রতিকুর রহমান সহ অন্যরা ছিলেন। পরে রামনগরে প্রচারে বেরিয়ে কচিকাঁচাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় প্রার্থীকে। পাশাপাশি, বারুইপুর পশ্চিমে প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণপুর পঞ্চায়েত এলাকায় মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। তারপর ধপধপি ১ পঞ্চায়েতের কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।
জয়নগর বিধানসভায় পুরসভার টাউন হলে কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস। ছিলেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ও অন্য নেতা-নেত্রীরা। রায়দিঘির সিপিএম প্রার্থী সাম্য গঙ্গোপাধ্যায় চাঁদপাসায় কর্মিসভা করার পাশাপাশি দেবীপুর বাজারে জনসংযোগ সারেন। বিষ্ণুপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ মণ্ডল কুলেরদাঁড়ি অঞ্চলের অন্তর্গত রঘুদেবপুর মোড় পণ্ডিতপাড়া থেকে করিমপুর তেমাথা পর্যন্ত নির্বাচনী পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে একাধিক কর্মিসভায় যোগ দেন। ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম সারেঙ্গাবাদ, জীবনতলায় গাড়ি করে রোড শো করেন।