তৃণমূলের রোড শো’য়ে থিকথিকে ভিড়, নিকাশিকে হাতিয়ার করে রাস্তায় বিজেপি
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটের বাকি আর ঠিক একমাস। সেই কাউন্টডাউন শুরু হতেই প্রচারের ময়দানে ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। রবিবারের প্রচারে সেই উত্তাপ যেন আরও একধাপ চড়ল। বালি, ডোমজুড়, মধ্য হাওড়া থেকে শিবপুর— প্রতিটি কেন্দ্রেই রোড শো, মিছিল আর জনসংযোগে স্পষ্ট হয়ে উঠল হাই ভোল্টেজ লড়াইয়ের ছবি।
এদিন বিকালে বেলুড়ে লালবাবা কলেজের সামনে কার্যত জনস্রোতে ভাসল বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রের রোড শো। বেলুড় স্টেশন রোড, এমএলবি রোড, জোড়া অশ্বত্থতলা হয়ে বালি বাজার— পুরো রুট জুড়েই ছিল থিকথিকে ভিড়। এই রোড শোয়ে ‘স্টার আকর্ষণ’ ছিলেন সাংসদ-অভিনেতা দেব। খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাত নাড়তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। কেউ সেলফি তুলতে, কেউ হাত মেলাতে রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো কর্মসূচি যেন সপ্তাহান্তে এন্টারটেইনমেন্টের লাইভ শোয়ের আবহ তৈরি করেছিল। প্রচার শেষে কৈলাস মিশ্র বলেন, ‘মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, দেবকে আনব, সেটা রেখেছি। নিকাশি নিয়েও যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেটাও পূরণ হবে। বালির জন্য সব করব।’
অন্যদিকে, সকালেই ডোমজুড়ের বাঁকড়ায় শক্তি প্রদর্শনে নামেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। জাপানি গেট থেকে কবরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তায় পদযাত্রা করেন তিনি। এই কর্মসূচিতে শামিল হন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। পদযাত্রার পর প্রার্থীর আত্মবিশ্বাসী বার্তা, ‘এই ভিড়ই বলে দিচ্ছে, মানুষের সমর্থন আমাদের দিকেই।’
মধ্য হাওড়ায় রবিবার থেকেই গতি পেয়েছে ভোটের প্রচার। শিবপুরের হাজারহাত কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে জনসংযোগ শুরু করেন তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়। খোলা গাড়িতে চেপে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন তিনি। পালটা বিজেপি প্রার্থী বিপ্লব মণ্ডলও মন্দিরতলা থেকে পদযাত্রা করে একাধিক এলাকায় প্রচার চালান। এদিকে, শিবপুরে আবার নিকাশি সমস্যা বড়ো ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই ইস্যুকে সামনে রেখে দাশনগর সহ একাধিক এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। জমা জলের সমস্যা ও নিকাশির দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর এই এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু শিবপুর নয়, গোটা হাওড়ার একই ছবি। এবার মানুষ তৃণমূলকে বিদায় করবে।’ সব মিলিয়ে, ভোট যত এগচ্ছে, ততই হাওড়ার রাজনৈতিক ময়দান আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে— রোড শো, মিছিল আর জনসমাগমই সেই লড়াইয়ের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।