• রামকৃষ্ণ মিশনের দুই প্রাক্তনীর ভোট লড়াইয়ে জমজমাট খড়দহ
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রামকৃষ্ণ মিশন মানেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য ধারা। মিশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মান নিয়ে বরাবরই সম্ভ্রম পোষণ করে সিংহভাগ বাঙালি। সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই প্রাক্তনীর ভোটযুদ্ধে জমজমাট খড়দহ। শুধু দুই প্রাক্তনীর লড়াই বললে কিছুটা ভুল হবে বৈ কি! কারণ, ইতিমধ্যে এই লড়াইয়ে জড়িয়ে গিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রাক্তনীরাও। রবিবার দুপুরে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনীদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে তৃণমূল নেতৃত্ব। লক্ষ্য ছিল ভোটবাক্সে বন্ধুত্বের আবেগের প্রতিফলন ঘটানো। বিজেপি প্রার্থীও নিজের স্কুলের বন্ধু সহ পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর পালটা দাবি, শুধু ভোটের আগে ‘পুনর্মিলন’ করে মন পাওয়া যায় না।

    খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। এখান থেকে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে মিশন পরিচালিত রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজে থেকে ১৯৯২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। পরে কলকাতা ও দিল্লি থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। কর্মজীবনে হয়ে ওঠেন বিশিষ্ট সাংবাদিক। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ১৯৮৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। মিশনের কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পঠনপাঠন শেষ করেন। কর্মজীবনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি আধিকারিকের চাকরি করেছেন। বর্তমানে তিনি বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক হিসাবে কর্মরত। 

    রবিবার রহড়া বাজারে তৃণমূলের উদ্যোগে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনীদের নিয়ে পুনর্মিলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংসদ পার্থ ভৌমিক, খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত, পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ, খড়দহ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সায়ন মজুমদার হাজির ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন পড়ুয়া। ছিলেন মিশনের একসময় পড়াশোনা করা প্রাক্তন ফুটবলার, আইনজীবী সহ বিভিন্ন পেশার প্রথিতযশা মানুষজন। তাঁরা প্রত্যেকে পানিহাটি এবং খড়দহের তৃণমূল প্রার্থীর হাত শক্ত করতে ভোট-ময়দানে নামার কথা বলেন।

    পালটা বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি শুধু মিশনের প্রাক্তন ছাত্র নই, কলেজ জীবনেও মিশনের হস্টেল ও জুনিয়র সেকশনে স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষাদান করেছি। মুর্শিদাবাদে রাজ্য সরকারের কৃষি আধিকারিক হিসাবে কাজ করার সময় সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পড়িয়েছি। মিশনের সঙ্গে এখনও আমার আত্মিক যোগাযোগ। খড়দহের একাধিক শিল্প-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, সামাজিক কাজে যুক্ত সংগঠনের সঙ্গে আমি রয়েছি। সেখানেও মিশনের প্রাক্তনীদের সঙ্গে আমার নিত্য যোগাযোগ। ভোটের আগে পুনর্মিলন করে মন জেতার চেষ্টায় কৃত্রিমতা থাকে। তাতে কোনো লাভ হয় না।’ তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরেহিত বলেন, ‘মিশনের প্রাক্তনীরা এই আয়োজন করে আমাদের ডেকেছিলেন। এখানে আমার স্কুলজীবন। কত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সবার সঙ্গে দৈনন্দিন যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁরা এমন আয়োজন করেছিলেন।’ খড়দহের সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস এমসিএ করেছেন। ছাত্র রাজনীতি করে উঠে আসা দেবজ্যোতি বলেন, ‘রামকৃষ্ণ মিশন থেকে পঠনপাঠন করা শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষজন স্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি, ধর্মীয় মেরুকরণ ও ঘৃণা ভাষণে তাঁরাও অতিষ্ঠ। সমাজ রক্ষার তাগিদে তাঁরা এবার সচেতনভাবেই বামপ্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)