• এবার কি বউদি-ননদের লড়াই? জোর চর্চা বাগদায়, বিজেপি এখনও প্রার্থী না দেওয়ায় বাড়ছে জল্পনা
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই দীর্ঘদিন পরিচিত বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র। মতুয়া ভোটব্যাংকে ভর করে এখানে একের পর এক নির্বাচনে দাপট দেখিয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু ভোটের মুখে তাদের সেই ঘাঁটিতে অস্বস্তির ছায়া ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। সূত্রের খবর, রেকর্ড সংখ্যক মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বা পড়তে চলেছে এখানকার ভোটার তালিকা থেকে। স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তাঁদের ক্ষোভ। এই অবস্থায় কয়েকদিন আগে তৃণমূল বাগদার প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেও বিজেপি এখনো তাদের প্রার্থীর নাম জানাতে পারেনি। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বহু মতুয়া ভোট বাদ যাওয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই কারণেই কি নিজেদের গড়ে প্রার্থী ঘোষণায় বিজেপির এই বিলম্ব? শাসক দল তৃণমূল বিজেপির এই অবস্থাকে ‘দুর্বলতা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের আরও কটাক্ষ, ‘ওদের সংগঠন ভেঙে পড়েছে বলেই প্রার্থী দিতে পারছে না।’ তবে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। বাগদায় এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর। উপনির্বাচনে জিতে তিনি বাগদার বিধায়ক হয়েছিলেন। তিনি প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বুথস্তরে সংগঠন গুছিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন মধুপর্ণা। বিজেপি প্রার্থী দিতে দেরি করায় কার্যত ফাঁকা ময়দানে প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল। এই আবহে বিজেপির অন্দরে জল্পনা, বাগদা বিধানসভায় পদ্ম-প্রতীকে প্রার্থী হতে পারেন সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। মতুয়াদের মধ্যে ঠাকুরবাড়ির প্রভাবের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। যদি তাই হয়, তাহলে বাগদা এবার বউদি-ননদের ভোটযুদ্ধের সাক্ষী থাকবে। কারণ, ঠাকুরবাড়িতে সোমাদেবী মধুপর্ণার বউদি। ব্যক্তিগত সমীকরণ কি ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলবে? মধুপর্ণা বলেন, ‘বিজেপি কেন প্রার্থী দিতে পারছে না বা কাকে টিকিট দেবে, সেটা আমাদের বিষয় নয়। আমি বাগদার ঘরের মেয়ে। প্রচারও শুরু করে দিয়েছি। মানুষ ফের আমাকেই জেতাবেন।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীর নাম দ্রুত দিল্লি থেকে ঘোষণা করা হবে। বনগাঁর প্রতিটি বিধানসভায় আমাদের জয় নিশ্চিত। প্রার্থী কে হবেন, সেটা কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক হয়। তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে মানুষ মুক্তি চাইছে।’

    তবে শুধু বাগদা নয়, বিজেপি এখনো প্রার্থী দিতে পারেনি এই জেলার মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রেও। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ক রথীন ঘোষ এবারও এখানে জোড়াফুলের প্রার্থী। তৃণমূল যেখানে আগেভাগে প্রার্থী দিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে, সেখানে বিজেপির এই টালবাহানা তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতারই প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে চিত্রটা স্পষ্ট—একদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্ব। এই সাঁড়াশি চাপে বাগদা ও মধ্যমগ্রামে প্রচারপর্বের শুরুতেই তৃণমূলের থেকে কয়েক কদম পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি।
  • Link to this news (বর্তমান)