নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘দিদি’র কাছে ‘ভাই’য়ের আবদার— ভোট কিন্তু দিতে হবে। পালটা দিদিও জয়ের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন। রবিবার সকালে এভাবেই রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকল যোধপুর পার্ক।
এদিন সকালে যোধপুর পার্ক অঞ্চলে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। এই অঞ্চল কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এখানেই থাকেন ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলার মধুছন্দা দেব। প্রচারে বেরিয়ে তাঁর বাড়িতে যান দেবাশিসবাবু। মধুছন্দা দেবের বাড়ির সামনের রাস্তায় সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় দু’জনের। পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ‘ভাই’ দেবাশিসকে ‘আশীর্বাদ’ করেন বাম কাউন্সিলার ‘দিদি’।
মধুছন্দা দেব এদিন কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী দীপু দাসের সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। কিছু ‘বিশেষ’ কারণে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন সেই সময়। তখনই দেবাশিস কুমারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে যায়। তারপর ফের কসবায় ছোটেন মধুছন্দা।
রাজনীতির ময়দানে এই সৌজন্য বিরল। তাহলে কি ‘ভাই’য়ের সঙ্গে দেখা করতেই বাম প্রার্থীর প্রচার ছেড়ে এসেছিলেন ‘দিদি’? এই দাবি খারিজ করে মধুছন্দা দেব বলেছেন, সবটাই ‘কো-ইনসিডেন্ট’। তাঁর কথায়, সাতসকালে প্রচারে গিয়েছিলাম। বাড়িতে লোকজন ছিল। বেরনোর সময় বাইরে দিয়ে তালা দিয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম। পরে এক ফাঁকে এসে তালা খুলে ফের যাচ্ছিলাম প্রচারে। তখনই দেবাশিসের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তার জায়গায়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভিন্ন। ও আমাকে দিদি বলে ডাকে। আমিও ওকে ভাইয়ের মতো দেখি। আমাদের দীর্ঘ বছরের পরিচয়। তাই ওকে শুভকামনা জানিয়েছি। রাজনীতিতে এই সৌজন্যই দরকার।’ অন্যদিকে, দেবাশিস কুমার ‘দিদি’র আশীর্বাদ পেয়ে খুশি। বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক বহু বছরের। এত বছর একসঙ্গে কলকাতা পুরসভায় কাজ করছি। দিদি-ভাইয়ের মতো সম্পর্ক। রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিসর আলাদা। এই সৌজন্য এখন রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়েছে। আমরা প্রতিপক্ষ, কিন্তু শত্রু নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মানই তো আসল পুঁজি।’
দেবাশিস কুমারের সঙ্গেই ছিলেন ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি দাস। তিনি বলেন, ‘মধুছন্দাদি আমার পাশের ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বিরোধী দলের কাউন্সিলার। উনি সিনিয়র, দিদির মতো। প্রয়োজনে পরামর্শ নিয়েছি। আমার বাড়িতেও উনি এসেছেন। রাজনীতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।’
যদিও তৃণমূলের দাবি, এদিন যোধপুর পার্ক বাজার এলাকায় যখন প্রচারে বেরিয়েছিলেন দেবাশিস কুমার, তখন তাঁর সঙ্গে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের দেখা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে এড়িয়েই চলে যান। অন্যদিকে, এদিন রহিম ওস্তাগার বস্তি, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট রোড, কাকুলিয়া রোডেও জনসংযোগ সারেন দেবাশিস কুমার।