• নাকা চেকিংয়ে ট্রাফিক কনস্টেবলকে পিষে মারার চেষ্টা, প্রগতি ময়দানে গ্রেপ্তার পড়ুয়া
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাকা চেকিংয়ের সময় গাড়ি আটকানোয় কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবলকে পিষে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকাল ৪টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশনের সামনে মা উড়ালপুলের ওঠার মুখে। অভিযুক্ত আরহাম জুনেইদকে প্রগতি ময়দান থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক অফিসারকে ঘুসি মারে সে। তিনি নাকে গুরুতর আঘাত পান। এরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এদিকে, এই ছাত্রের পরিবারের দাবি, তাকে থানায় বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমনকি, আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে তার মেডিক্যাল পর্যন্ত করানো হয়নি। যদিও পুলিশের দাবি এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জুনেইদ নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল থেকে ভালো নম্বর পেয়ে আইএসসি পাস করেছে সে। শনিবার বিকালে জুনেইদ পার্ক সার্কাস এলাকায় দাদুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ইএম বাইপাস থেকে মা উড়ালপুল ধরার কথা ছিল তার। উড়ালপুলে ওঠার মুখে নাকা পয়েন্টে গাড়িটি আটকান কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মী। তিনি গাড়িটি তল্লাশি করতে চাইলে বাধা দেয় ওই ছাত্র। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, সেই সময় ওই পুলিশ কর্মীকে কার্যত চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। এই ঘটনায় আহত হন ওই কনস্টেবল। তাঁর পায়ের হাড় ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গাড়িচালক জুনেইদ পুলিশ কর্মীর পায়ের উপর চাকা তুলে দেওয়ায় তড়িঘড়ি ছুটে আসেন অন্য পুলিশ কর্মী ও অফিসার। তাঁরাই গাড়িটিকে আটকান। প্রগতি ময়দান থানায় খবর দেওয়া হলে অফিসাররা এসে ওই যুবক ও গাড়িটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। অভিযোগ, থানায় ঢুকে কর্তব্যরত এক অফিসারের মুখে ঘুসি মারে সে। এতে নাকে আঘাত পান ওই অফিসার।

    নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে জুনেইদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তের আইনজীবী সুব্রত সর্দার বলেন, জুনেইদ নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাড়ি নিয়ে সে পুলিশকে ধাক্কা দেয়নি। বরং থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশ লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে তাকে। বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পেয়েছে সে। ওই যুবকের কোথায় কোথায় আঘাত লেগেছে, তা তুলে ধরেন তিনি। সুব্রতবাবু তাঁর মক্কেলের জামিন চান। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, অভিযুক্তকে নাকাতে আটকানো হলে গাড়ি নিয়ে ধাক্কা মারে পুলিশকর্মীকে। এমনকি, থানায় এক পুলিশ কর্মীকেও মারধর করেছে। অভিযুক্তের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে মারধরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সওয়াল শেষে অভিযুক্তকে জেল হেপাজতে পাঠায় আদালত।
  • Link to this news (বর্তমান)