• ১৫২ কেন্দ্রে যাচাই সম্পূর্ণ! ভোটার লিস্ট চূড়ান্ত, জানাই গেল না বিচারাধীনদের মধ্যে বাদ কত, ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি নিয়েও চুপ কমিশন
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের প্রথম পর্বে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট ২৩ এপ্রিল। আর এই প্রথম দফার ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে! কমিশন সূত্রে সেটাই খবর। অথচ, কত ভোটার ‘যোগ্য’ তকমা পেলেন, কত নাম বাদ গেল, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যই নেই। রবিবার রাতে চতুর্থ অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তারপরও কিন্তু অঙ্ক মেলানো যাবে না। কারণ, তালিকা রয়েছে শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে। বুথ পর্যায়ে রবিবার পর্যন্ত তালিকা প্রকাশই হয়নি। বাংলার বিচারাধীন ভোটাররা প্রথমে অনলাইন হাতড়ে নিজের নাম খুঁজছেন। তারপর দেখছেন, ইলেক্টোরাল রোলে তিনি ঠাঁই পেয়েছেন কি না। আর ‘ডিলিটেড’ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গেলে খোঁজ শুরু হচ্ছে ট্রাইবুনালের। একটা বিষয় নিশ্চিত, এই চারটি তালিকা মিলিয়ে ১৫২টি কেন্দ্রের বিচারাধীন ভোটারদের নাম প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটার লিস্ট চূড়ান্ত। তাই এই ভোটারদের হাতে থাকছে মাত্র সাতদিন। ট্রাইবুনালে আবেদন, নিষ্পত্তি এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য। তারপরই ফ্রিজ হয়ে যাবে ২৩ এপ্রিলের ভোটার তালিকা। একরাশ ধোঁয়াশা সঙ্গী করেই। 

    ২১ মার্চ রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটার এবং যাঁদের তালিকা নিয়ে অন্য আপত্তি রয়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। শনিবার রাতেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অফলাইনে লিখিতভাবে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি ফরম্যাটও তৈরি করেছে কমিশন। পাশাপাশি রবিবার রাতে জানা গিয়েছে, ট্রাইবুনাল বসবে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির জোকায়, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউটে। ১৯ জন বিচারপতি সেখানে বসবেন। কিন্তু তাঁরা বিবেচনাধীন ভোটারদের শুনানি কবে থেকে শুরু করবেন? ঠিক হয়নি। এই নিয়ে নির্দিষ্ট এসওপি কী হবে, সেটাও ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। তাই ধোঁয়াশা থাকছেই। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন জানালে আদৌ সেই আবেদন নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট গাইডলাইন নেই। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার পর বাদ পড়া কোনো ভোটার যদি যোগ্য বলে ট্রাইবুনালে বিবেচিত হন? তাহলেও এবারের নির্বাচনে তাঁর ভোটাধিকার থাকবে কি না, সে ব্যাপারে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই।

    পাশাপাশি ট্রাইবুনালে অফলাইনে আবেদনের জন্য ফরম্যাটে বলা হয়েছে, আবেদনপত্রের সঙ্গে যে সমস্ত নথি জমা দেওয়া হবে, তার একটি প্রতিলিপি এবং কোনো বাদ পড়া ভোটার যদি সশরীরে ফর্ম জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রাপ্তি-রসিদ নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। কিন্তু কীভাবে, কবে এবং কোথায় তাদের শুনানিতে ডাকা হবে? তার কোনো উল্লেখ ফরম্যাটে নেই। ফলে বিভ্রান্তি সর্বত্র। বাদ পড়ার তালিকায় থাকা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের আমিনা বিবি, রোকেয়া সুলতানা কিংবা জাহাঙ্গির আলমদের তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন, ‘আমাদের দোষ কি? একবার শুনানিতে ডেকে একের পর এক নথি নেওয়া হল। তাও নাম বাদ দিয়ে দিল! আবার হাজারটা নথি চাইছে। আমাদের কি এবার দেশছাড়া হতে হবে?’

    কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত মোট ৪০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। এবং প্রথম তিনটি তালিকাতেই অন্তত ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ হয়েছে। আর ৪০ লক্ষের মধ্যে ১৮ লক্ষ ভোটার অযোগ্য বলে বাদ গিয়েছেন। অথচ, কাগজে-কলমে তার কোনো প্রমাণ নেই। সবটাই অন্তরালে। কেন এই ব্যতিক্রম? প্রশ্ন তুলছেন ভোটাররা। 
  • Link to this news (বর্তমান)