নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জনস্রোতে ভাসছে গোটা রাস্তা। ঘাসফুলের বড়ো বড়ো ঝান্ডা, রঙিন বেলুন, প্রার্থীর ছবি দেওয়া কাট আউট। তার মাঝখানে ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে হুডখোলা জিপ। উপরে চারবারের বিধায়ক তথা এবার ভোটে বিধাননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু। তাঁর হাতে মাইক্রোফোন। বারান্দা, জানালা থেকে হাত নাড়ছেন মানুষ। ‘ভালো আছেন?’ ‘শরীর ভালো আছে?’ ইত্যাদি। মাইক্রোফোনে প্রত্যুত্তর দিতে দিতে এগিয়ে চললেন সুজিত। সল্টলেকের মানুষ হাত নেড়ে জানালেন, ‘ভালো আছি’। রবিবার ছুটির দিনে এমনই জমজমাট ভোট প্রচারের সাক্ষী থাকল সল্টলেক।
২০০৯ সালের উপ নির্বাচন এবং ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। পরপর চারবার জয়ী হয়েছেন সুজিত বসু। পঞ্চমবারের জন্য তিনি বিধাননগর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। গোটা বিধানসভা তাঁর হাতের তালুর মতোই চেনা। এদিন সকালে সল্টলেক-২ নম্বর গেটে হাজির হন সুজিত। সল্টলেকের দলীয় কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জমায়েত করেন। তারপর শুরু হয় রোডশো। ধামসা, মাদল সহযোগে আদিবাসী নৃত্য ছিল সেই র্যালিতে। শেষ হয় বৈশাখীতে গিয়ে। এত বিপুল জমায়েত হয়েছিল যে প্রার্থী বৈশাখীতে পৌঁছানোর পরও ভিড় পাতলা হয়নি। আত্মবিশ্বাসী সুজিত বলেন, ‘সল্টলেকের মানুষ, বিধাননগরের মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে, শান্তির পক্ষে। তাঁরা আমাকেই পঞ্চমবারের জন্য নির্বাচিত করবেন।’
এদিন বিধাননগরের সিপিএম প্রার্থী সৌম্যজিৎ রাহাও প্রচার সারেন। সকাল ৮টা নাগাদ লেকটাউন দক্ষিণদাঁড়ি এলাকায় মিছিলের মাধ্যমে জনসংযোগ ও প্রচার চালান তিনি। এলাকার বহু মানুষ মালা এনে প্রার্থীকে বরণ করে নেন। প্রার্থীও এই ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত। সৌম্যজিৎ রাহা প্রচারে বলেন, ‘এই নির্বাচনে তৃণমূলের দুর্নীতি আর বিজেপির বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
এদিন প্রচার সারেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি এবং রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া। তরুণজ্যোতি বিস্তীর্ণ এলাকায় জনসংযোগ সারেন। এদিন গোপালপুর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার প্রচারে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপি প্রার্থীকে দেখে বিক্ষোভ দেখান। তা নিয়ে প্রার্থীর সামনেই দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি বেধে যায়। বিজেপি প্রার্থী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনোভাবেই আমাদের থামানো যাবে না।’ শাসক দলের পালটা অভিযোগ, ‘বিজেপি প্রার্থীই গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করেছিলেন।’