• ১০ বছর ধরে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার প্রোমোটার
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিজাত ক্লাবে পরিচয়ের পর ইএম বাইপাসের ধারে একাধিক নামী হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রোমোটারের বিরুদ্ধে। যুবতী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ, মারধর সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ এনে অভিযুক্ত কল্যাণ সরকারকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করছে টালিগঞ্জ থানা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবতীর সঙ্গে ২০০৯ সালে কলকাতার একটি অভিজাত ক্লাবে পরিচয় হয় ওই প্রোমোটারের। তখন দু’জন অনেক রাত পর্যন্ত কথা বলতেন। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে অভিযোগকারিণী কল্যাণের সঙ্গে প্রিন্স আনোয়ার শা রোডের একটি নামী শপিং মলে দেখা করেন। সেখানে কল্যাণ নিজেকে অবিবাহিত বলে জানায় এবং তরুণীকে বিয়ে করতে চায়। তিনি রাজি হলে তাঁকে একটি মন্দিরে নিয়ে যায় যুবক। সেখানে সিঁদূর পরিয়ে বিয়েও করে। বলে, এখন থেকে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে থাকবেন। তরুণী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, এরপর পুরীর একটি নামী হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। এমনকি, তাঁর বাড়িতে এসেও ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। তিনি শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে ভয় দেখানো হত। এমনকি, বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। বাধ্য হয়েই ওই যুবতী তার প্রস্তাব মতো বিভিন্ন হোটেলে যেতেন। অভিযোগ, ইএম বাইপাসের ধারে একাধিক হোটেলে তাঁকে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে ওই প্রোমোটার। তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গর্ভপাত করায় অভিযুক্ত। তিনি রাজি না হওয়ায় মারধর পর্যন্ত করা হয়। দিনের পর দিন অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় তিনি চলতি মাসে টালিগঞ্জ মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু হয়। নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। পাশাপাশি মেডিকো লিগ্যাল টেস্ট করায় পুলিশ। ধর্ষণের তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর ওই প্রোমোটারকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে টালিগঞ্জ মহিলা থানা। 

    রবিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, এতদিন পর কেন অভিযোগ করা হল? আর তরুণী তো স্বেচ্ছায় ও সম্মতিতে বিভিন্ন হোটেলে গিয়েছেন। তাই এটা ধর্ষণের ঘটনা নয়। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, অভিযুক্ত তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে, তার প্রমাণ রয়েছে। সওয়াল শেষে কল্যাণকে পুলিশ হেপাজতে পাঠায় আদালত। 
  • Link to this news (বর্তমান)