ভাঙড়ে প্রচার কবে শুরু, ঠিকই করতে পারেনি বিজেপি! কুলতলিতে দেখাই মিলছে না বাম প্রার্থীর
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: প্রচার শুরু হবে কবে থেকে, এখনো তা ঠিক করে উঠতে পারেনি ভাঙড়ের বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূল এবং আইএসএফ প্রার্থীরা যেখানে প্রচারে ঝড় তুলছেন, সেখানে এখনও ময়দানে নামেইনি পদ্মপার্টি। হয়নি দেওয়াল লিখনও। স্বাভাবিক কারণেই এলাকার মানুষজনের বক্তব্য, বিজেপি প্রার্থীর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও পদ্মপার্টির প্রার্থী জয়ন্ত গায়েনের দাবি, আগে কর্মিসভাগুলি সেরে ফেলা হচ্ছে। তারপরেই প্রচার শুরু হবে। অন্যদিকে, কুলতলির সিপিএম প্রার্থীকেও প্রচারে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর। সিপিএম প্রার্থী যদিও দাবি করেছেন, তিনি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, তাঁকে দেখাই যায়নি। পেশায় শিক্ষক জয়ন্তবাবুকে বিজেপি ভাঙড়ের প্রার্থী করার পর থেকেই এলাকায় তাঁকে দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর কারণ কি দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? প্রশ্ন তাঁদের। সব দল যখন জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইছে, তখন ভাঙড়ে যেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে পদ্মপার্টি। জয়ন্তবাবু বলেন, দলে কোনো কোন্দল নেই। আমরা দু’এক দিনের মধ্যেই প্রচারে নেমে পড়ব। তখন দেওয়াল লিখনও হবে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে হিন্দু ভোটের হার খুব বেশি নয়। তবুও বিজেপির দাবি, এখানে প্রায় ৮০ হাজার হিন্দু ভোট আছে। আসন্ন নির্বাচনে সেইসব ভোটারদের সমর্থন আশা করছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এদিকে, কুলতলি বিধানসভা কেন্দ্র একসময় বাম এবং এসইউসির শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এখানে বিধায়ক ছিলেন সিপিএমের রামশংকর হালদার। তিনি এবারও প্রার্থী। পরিস্থিতি এখন অনেকটা বদলেছে। এই বিধানসভায় তৃণমূল ও বিজেপি জোরকদমে প্রচার সারলেও এখনও দেখা নেই সিপিএমের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময়ে দাপট দেখানো বামেরা এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ভোটের আগে না আছে প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন, না হচ্ছে তাদের মিছিল বা বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ। প্রচার শুরু হয়নি কেন, সেই প্রসঙ্গে রামশঙ্করবাবু বলেন, সন্ত্রাসের পরিবেশ এখানে। হুমকি চলছে অবিরত। প্রাণভয়ে কে বেরোবে! আমাদের নিজস্ব দেওয়ালেই প্রচার চলবে। আর পোস্টারও মারা হবে। তবে কি কর্মীর অভাব আছে? প্রার্থীর বক্তব্য, কর্মীরা আছেনই। বাম কর্মীরা সহজে বদল হন না। কর্মী বৈঠক, প্রস্তুতি সভা চলছে। আরও হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকেও কাজে লাগানো হবে। যদিও এক সিপিএমের কর্মীর কথায়, এখানে নতুন মুখ দিলে লড়াইয়ের জায়গা থাকতো। সেই একই মুখ দিয়ে আর কত হবে?
এদিকে, তৃণমূল প্রার্থী গণেশ মণ্ডল সিপিএমকে কটাক্ষ করে বলেন, বামেদের কর্মীরা সব আমাদের দিকে চলে এসেছেন। লোকই নেই ওদের। কারা প্রচার করবেন!