বারুইপুর পূর্ব: উন্নয়নই লক্ষ্য তৃণমূল প্রার্থী বিভাসের, পুরানো মুখই ভরসা সিপিএমের, বিজেপির নতুন মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ভোটে দুই ভূমিপুত্র ও এক ভূমিকন্যার লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী বিভাস সর্দার দ্বিতীয়বার ভোটযুদ্ধে। অন্যদিকে সিপিএমের প্রতিদ্বন্দ্বী গত বিধানসভা ভোটের সেই পুরনো মুখ স্বপন নস্কর। আর বিজেপি এবার নতুন মহিলা মুখ এনেছে। টুম্পা সর্দারকে প্রার্থী করে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এদিকে, অর্ধসমাপ্ত উন্নয়ন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রচারে ছুটছেন বিভাস। আর বিরোধী সিপিএম ও বিজেপির আশা, ভোট শান্তিপূর্ণ হলে, মানুষ ভোট দিতে পারলে ফল হবে উল্টো। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতিকে ইস্যু করে প্রচারমুখী তাঁরা।
তৃণমূল প্রার্থী বিভাস সর্দার বারুইপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আর সিপিএমের প্রার্থী স্বপন নস্করের বাড়ি রামনগর ১ পঞ্চায়েত এলাকায় হলেও থাকেন বারুইপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। আর বিজেপির টুম্পা সর্দার মদারাট পঞ্চায়েত এলাকায় থাকেন। গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী বিভাস সর্দার ৫১ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। গত লোকসভা ভোটেও এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একই ব্যবধান ছিল তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষের। এই ফলাফলই এবার উজ্জীবিত করছে তৃণমূল কর্মীদের। এবারে জয়ের ব্যবধান কত বাড়বে, সেই নিয়ে তাঁদের মধ্যে চর্চা চলছে।
বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকায় মোট ১৫টি পঞ্চায়েত। কয়েকটি পঞ্চায়েতে গত লোকসভায় তৃণমূলের ফল খুব ভালো হয়নি। সেই পঞ্চায়েতগুলিতে এবারে প্রচারে বেশি নজর দিচ্ছে বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রার্থী বিভাস সর্দার বলেন, আমার কেন্দ্রে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে কিছু কাজ বাকিও আছে। এছাড়া পরিকল্পনা আছে আরও উন্নয়নের। সেই লক্ষ্য নিয়েই ফের মানুষের আশীর্বাদ নিতে এগচ্ছি। সাড়াও পাচ্ছি। অন্যদিকে বিজেপি নতুন মুখ টুম্পা সর্দারকে আনলেও অনেক পঞ্চায়েত এলাকাই তাঁর পরিচিত নয়। সেখানে মানুষের সঙ্গে পরিচয় পর্বতেই লেগে যাচ্ছে সময়। গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সারছেন তিনি। মানুষের সমস্যাও শুনছেন।
বিজেপির প্রার্থী বলেন, বারুইপুর পূর্বে শুধু তোলাবাজি আর দুর্নীতি হয়েছে। প্রচারেও সেই অভিযোগ করছে মানুষ। এই কেন্দ্রে একটা ভয়ের আবহ কাজ করছে। অনেককে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এটা কাটিয়ে মানুষ বাইরে বেরিয়ে নিজের ভোট দিতে পারলে সব ফল উল্টে যাবে। মানুষ পরিবর্তন চাইছে।
অন্যদিকে, সিপিএমের প্রার্থীর স্বপনবাবুর প্রচারে কর্মী কম। নিজেই কর্মীদের ডেকে সংগঠিত করে প্রচার করছেন। স্বপনবাবু বলেন, লড়াই থেকে সরে যাইনি। দুর্নীতিই আমাদের প্রধান ইস্যু। প্রতি পঞ্চায়েতে দুর্নীতি আর পদাধীকারীদের থেকে খারাপ ব্যবহার উপহার পেয়েছে মানুষ। গত বিধানসভা ভোটের পরে আমাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তাই অন্যত্র থাকি। ফলে এবার ভোট ঠিকমতো হলে তৃণমূল জিতবে না। নিজস্ব চিত্র