দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
রবিবাসরীয় প্রচারে এ বারে মহাপ্রভুর কাছে বাতাসা ছড়িয়ে গ্রামবাসীদের মানত শোধ করলেন পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি। রবিবার দলীয় কর্মীদের নিয়ে পুরশুড়ার প্রত্যন্ত এলাকা হাটি, সোমসপুর, ভূঁইয়েরা-সহ একাধিক গ্রামে গিয়ে বাড়ি-বাড়ি প্রচার সারলেন। তাঁর ছড়ানো বাতাসা হুড়োহুড়ি করে কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে যান গ্রামের মানুষজন। আট থেকে আশি সবাই পার্থর হরির লুট দেওয়া বাতাসা কুড়োলেন। একই সঙ্গে পার্থ ভোটের প্রচারও করলেন গ্রামে। অনেককেই প্রণাম করে আশীবাদ নিলেন তিনি।
ছড়ানো বাতাসা এক গৃহবধূ কুড়িয়ে এনে পার্থর হাতে দিলেন। খেতেও বলেন। ঠান্ডা জলও দিলেন তিনি। জল-বাতাসা খেতে খেতে প্রচারে পার্থ বললেন, তাঁকে যেন আশীর্বাদ করেন গ্রামবাসীরা। তাঁর আবেদন, 'অশুভশক্তির বিনাশ করুন।'
কিন্তু কেন এই বাতাসা ছড়ানো? পার্থর উত্তর, 'এই এলাকার মানুষ ভূমিপুত্রকেই চেয়েছিলেন। আমি ভূমিপুত্র। তাই, মানত শোধ করলাম। প্রার্থনা করেছি, এই পুরশুড়ায় অশুভশক্তির বিনাশ হোক। তাই প্রচারের সময়ে মহাপ্রভু তলায় গিয়ে বাতাসা ছড়ালাম।' আবার কোথাও তিনি বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কাছে নিয়ে মাথা নত করে ভোট ভিক্ষা করেন। তাঁদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন।
অন্য দিকে, গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি গড় মান্দারণ পর্যটনকেন্দ্রকে সেরা পর্যটনকেন্দ্র করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। প্রচারের সময়ে সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, 'এখানে হাতি, হরিণ, জিরাফ দিয়ে পার্ক সাজানো হবে। এই ঐতিহাসিক জায়গাকে দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র করে দেখাব। এর ভোলটাই বদলে দেবো। আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে খানাকুলে তৃণমূল প্রার্থী পলাশ রায় রাস্তাতেই উনুন জ্বালিয়ে ডিম ভাজলেন। এই ভাবেই বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন চমক দিতে প্রচার চালালেন রবিবার। খানাকুলের বিভিন্ন প্রান্তে পলাশ ঘোরেন। বর্তমানে যেটা মূল ইস্যু, সেই গ্যাস নিয়ে তিনি প্রচার করেন বিজেপির বিরুদ্ধে।
আবার আরামবাগের সিপিএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিত পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে প্রচার সারলেন রবিবার। মায়াপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় সিপিএম কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, লাল ঝান্ডা নিয়েই ভোট ভিক্ষা করেন তিনি। 'সার' নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, 'যাঁরা বাতিল হলেন, তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।' সেখানে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন সিপিএম প্রার্থী।
অন্য দিকে, গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে কেন বামফ্রন্টের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, সেই কথা তুলে ধরছেন গোঘাটের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী মুক্তারাম ধাওড়ে। তাঁর অভিযোগ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ডাক্তার নেই, গোঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসার সুব্যবস্থা নেই। ১০০ দিনের কাজের দাবি-সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রচার করছেন গোঘাটের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী মুক্তারাম ধাওড়ে।
উল্লেখ্য, প্রচারে কয়েক দিন ধরেই গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি বলছেন, গোঘাটের মেডিকাল কলেজ হাসপাতাল অর্থাৎ মিনি পিজির কথা। এমনকী, গড় মান্দারণ পর্যটনকেন্দ্রে ১০০টি হরিণ, চারটি হাতি, জেব্রা নিয়ে এসে গোঘাটের পর্যটন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের এক নম্বর করবেন- এ কথাও বলেন নির্মল। এগুলো যে সবই 'ভাঁওতাবাজি', সেই কথাও বলেন ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী।
আবার আরামবাগের ঘরগোয়াল এলাকায় তৃণমূলের প্রার্থী মিতা বাগ ভোট চাইতে গেলে, সেখানে তাঁকে গ্রামের কিছু বাসিন্দা বলে দেন যে, তাঁরা বিজেপিকেই ভোট দেবেন। অভিযোগ, সেখানে উন্নয়ন না হওয়ায়, ক্ষোভের মুখে পড়েন মিতা। যদিও মিতা বাগ জানান, এ রকম অভিযোগ বা মন্তব্য তাঁকে কেউই করেননি। মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। গ্রামের মানুষ তাঁকে সাদরেই গ্রহণ করেছেন।