• LPG সঙ্কটে কাঠের উনুনে রান্না শ্রমজীবীতে
    এই সময় | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বেলুড়: এলপিজি সঙ্কটে গোটা দেশ। কেন্দ্র যতই আশ্বাস দিক, রোজকার রান্নাঘর থেকে রাস্তায় চলতে অটো রিকশার সিএনজি ভরাতে ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ বার রান্নার এলপিজির টানাটানিতে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবীর বেলুড় ও শ্রীরামপুরের হাসপাতাল। একই সঙ্গে, বেলুড় শ্রমজীবীর পাঠশালা তথা নার্সিং প্রশিক্ষণ কলেজেও এলপিজির অভাব প্রকট হয়েছে।

    পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে গত একমাস ধরে রাজ্যে এলপিজি সঙ্কট প্রকট হয়েছে। গৃহস্থের রান্নাঘরেও বুঝেশুনে এলপিজি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন রাঁধিয়েরা। কিন্তু জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্র হিসেবে বেলুড়ের শ্রমজীবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এত দিন কোনওমতে এলপিজি জোগাড় করতে পেরেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে শ্রমজীবীও প্রয়োজন মতো এলপিজি না পেয়ে, চরম সমস্যায় পড়েছে। রান্নার সিলিন্ডারের অভাবে কাঠের উনুনে রান্না করতে হচ্ছে রোগী-সহ হাসপাতালের কর্মীদের জন্য। বেলুড়ের শ্রমজীবী হাসপাতালে রয়েছে ৬০টি শয্যা। চিকিৎসক, রোগী ও কর্মী মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনের রান্না হয় প্রতি দিন। তাই, এখানে মাসে অন্তত ৪০টি এলপিজির প্রয়োজন হয়। শ্রমজীবী পাঠশালাতেও রোজ প্রায় ১৫০ জনের খাবার তৈরি হয়।

    এ ছাড়া, শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালেও প্রতি দিন দু'টি সিলিন্ডার লাগে রান্নার জন্য। এখন সর্বত্রই বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তৈরি করা হয়েছে কাঠের উনুন। কিনতে হচ্ছে হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। স্বভাবতই, কাটছাঁট করতে হচ্ছে রোগীদের প্রতি দিনের মেনুতেও। একই সঙ্গে সমস্যায় পড়ছেন রোগীর আত্মীয়রাও। শ্রীরামপুর ও বেলুড়ের হাসপাতালের আশপাশে যে সব ছোটখাট খাবারের দোকান আছে, রোগীর বাড়ির লোকজন এত দিন সেখানেই খাওয়াদাওয়া সারতেন। কিন্তু এলপিজির অভাবে সেগুলি বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে, সমস্যায় পড়ছেন রোগীর আত্মীয়রাও।

    এলপিজির পাশাপাশি, সিএনজির টানাটানিতে ব্যাহত হচ্ছে অটো চলাচল। শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতাল থেকে শেওড়াফুলি স্টেশন পর্যন্ত অটো রিকশা পরিষেবা কমে যাওয়ায়, সমস্যায় পড়ছেন রোগী ও বাড়ির লোকজন। শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের রাঁধুনি বাসুদেব আঁকুড়ে বলেন, 'কাঠে রান্না করা খুবই ঝামেলার। হাসপাতালে প্রচণ্ড ধোঁয়ার সমস্যা হয়। কোনও রকমে দু-একটি পদ রান্না করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।' শ্রমজীবী হাসপাতালের সহ সম্পাদক গৌতম সরকার বললেন, 'রান্নার গ্যাসের পরিষেবা কত দিনে স্বাভাবিক হবে, বুঝতে পারছি না। আমাদের এত জনের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় রোজ দু'বেলা। রোগী ছাড়াও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের খাবার দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। সরকার অবিলম্বে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করলে ভাল হয়।

  • Link to this news (এই সময়)