• আসছেন মমতা, দ্বন্দ্ব ভুলে একমঞ্চে নেতারা
    এই সময় | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: ব্লক এক। সবাই তৃণমূলের নেতা-নেত্রী। কিন্তু শেষ কবে তাঁদের এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে, তা দলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই মনে করতে পারেন না। অথচ তাঁরাই এ বার মিলে গেলেন এক মঞ্চে। হাতে হাত রেখে শপথ করলেন, এক সঙ্গে কাজ করবেন। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতির কর্মিসভায় এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল ডেবরার শিকারপুর।

    আজ, সোমবার ডেবরায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী সমাবেশ। সেই উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় ছিল দলের কর্মিসভা। উপস্থিত ছিলেন ডেবরার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চেই দেখা যায় প্রদীপ কর, রাধাকান্ত মাইতি, সেলিমা খাতুন, বিবেক মুখোপাধ্যায়, সীতেশ ধাড়া, শান্তি টুডু থেকে ছোট-বড় সব নেতাকে। বিভিন্ন সময়ে যাঁদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সাক্ষী থেকেছেন দলের কর্মীরা। সেই সব নেতাই কর্মীদের সামনে হাতে হাত ধরে শপথ নিলেন প্রার্থীকে জেতানোর। যা দেখে দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিস্মিত। এক কর্মীর কথায়, 'নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম। পরে মনে হল, মুখ্যমন্ত্রীর সভা আছে। সেখানে যাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি সামলে চলে না আসে, সে দিকে সতর্ক থাকতেই সবাই ফেরে একজোট হয়েছেন।'

    ডেবরায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল দলীয় নেতৃত্বেরও অজানা নয়। যেখানে বিদায়ী বিধায়ক ও সীতেশ ধাড়া একদিকে। অন্য দিকে প্রদীপ কর, রাধাকান্ত মাইতি। আবার আদিবাসী নেত্রী শান্তি টুডু তাঁর মতো কর্মসূচি করতেন। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক সেলিমা খাতুনও। এক পক্ষ দলীয় কর্মসূচি করলে অন্য পক্ষ গরহাজির থাকতেন। এটাই ছিল ডেবরায় তৃণমূলের ছবি। এ দিন যা একেবারে পাল্টে গেল মুখ্যমন্ত্রীর সভার কারণে। এ ব্যাপারে ডেবরা ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদীপ কর বলেন, 'কারও মনে ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু দলের প্রার্থীকে জেতাতে সবাইকে এক ছাতার তলায় আসার জন্য বারবার বোঝানো হয়েছে। তাতে সাফল্য মিলেছে। আমরা জোট বেঁধে প্রার্থীকে বেশি মার্জিনে জেতাতে চাই।'

    আর শান্তি টুডুর দাবি, 'আমি দলের নির্দেশ মেনে প্রতিটি কর্মসূচি পালন করি। সম্প্রতি আদিবাসী সংলাপ কর্মসূচি থাকায় সব সময় হয়তো প্রার্থীর সঙ্গে থাকতে পারিনি। কিন্তু প্রার্থীকে জেতাতে তাঁর হয়ে প্রচারে কসুর করিনি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, দলীয় প্রার্থীকে রেকর্ড ভোটে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠানো।'

  • Link to this news (এই সময়)