এই সময়, মেদিনীপুর: নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। এ বারও তাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোথায়। দিন ঘোষণা, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেও অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে এখনও দেওয়াল লেখা হয়নি। তা হলে কী সব প্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় হচ্ছে? তাই দেওয়াল লিখন কমেছে? না, তা ঠিক নয়। জানা গিয়েছে, এ বার দেওয়াল লিখনের শিল্পীই মিলছে না। যে কয়েক জন শিল্পী দেওয়াল লিখছেন, তাঁদের নিয়েই টানাটানি করছে রাজনৈতিক দলগুলি। যে কারণে দেওয়াল লিখনের কাজ চলছে ধীর গতিতে বলে দাবি রাজনৈতিক দলগুলির। অনেকে আবার নিজেদের দলীয় কর্মীদের দিয়েই দেওয়াল লেখাচ্ছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র। পনেরোটি কেন্দ্রে কম করে ৬০ জন প্রার্থী। প্রার্থী সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মূলত তৃণমূল, বিজেপি, বাম, কংগ্রেসের প্রার্থীর দেওয়াল লিখনের শিল্পী পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একজন শিল্পী দু-তিন জন প্রার্থীর দেওয়াল লিখনের দায়িত্ব নিয়েছেন। খড়াপুর (গ্রামীণ) বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী দীনেন রায় বলেন, 'এ কথা ঠিক নির্বাচনের সময়ে পেশাদার দেওয়াল লিখন শিল্পীর অভাব দেখা দিচ্ছে। কারণ, সবাই আগে দেওয়াল লেখাতে চায়। অধিকাংশ জায়গায় দলের কর্মীরাই যেমন পারছেন লিখছেন। আবার বাজার এলাকাগুলোতে ভালো ভালো শিল্পী দিয়ে লেখানো হচ্ছে।' কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্ত বলেন, 'গ্রামের দিকে শিল্পী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দলের কর্মীরাই দেওয়াল লিখছেন। তবে পেশাদার শিল্পী খোঁজা হচ্ছে। চক, বাজার এলাকায় কিছু ভালো দেওয়াল লেখাতে হবে। তা ছাড়া ফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার তো রয়েছে।' এই সমস্যা শুধু মেদিনীপুর, খড়াপুর বা ডেবরা, সবং কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়। এই সমস্যা সর্বত্র। মেদিনীপুরের দেওয়াল লিখন শিল্পী সুনীল বেহেরা বলেন, 'কম্পিউটার, ফ্লেক্স, ভিনাইল এসে যাওয়ার পরে আমাদের মতো শিল্পীদের কদর কমেছে। তাই এই পেশায় আর কেউ আসতে চান না। ভোটের সময়ে আমাদের খোঁজ পড়ে।
নির্বাচনের সময়ে কাজ বেশি থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লেখার জকেশপুরের দেওয়াল লিখন শিল্পী তরুণ দোলই বলেন, 'নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে ডাক আসে। কম সময়ের মধ্যে সব লেখা শেষ করতে হবে। বড্ড চাপের কাজ।'ন্য ডাক আসছে। কিছু কাজ ধরেছি। সবাই তাড়াহুড়ো করছে।'
মেদিনীপুরের শিল্পী শম্ভু দাস বলেন, 'যাঁরা দেওয়াল লিখতে জানেন, তাঁদের কেউ কেউ কলকাতা, হলদিয়া চলে গিয়েছেন। সেখানে একটু বেশি রোজগার হয়। ফলে দু-একজন সহযোগী নিয়ে কাজ করছি।' মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা শঙ্কর গুছাইত বলেন, 'এই ক্রাইসিস হবে বলেই আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম বাদ রেখে অনেক আগেই বেশ কিছু দেওয়াল লেখা হয়েছে।'