চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
ভোটের ডিউটিতে ডাক পড়েছে ডাক্তারদের। নির্বাচনের ধাক্কায় বেসামাল দশা কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। দু'জন চিকিৎসক থেকে শুরু করে ওয়ার্ড মাস্টার, অপারেশন থিয়েটারের কর্মী-সহ ২৫ জন হাসপাতাল কর্মীকে বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন। যার জেরে পরিষেবা কী ভাবে স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে ফাঁপড়ে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সমস্যা মেটাতে জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। যদিও কমিশন থেকে এখনও ডিউটি বাতিলের কোনও নির্দেশ আসেনি। তবে শুধু মেডিক্যাল কলেজই নয়, জেলার বিভিন্ন মহকুমা এবং ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোটের ডিউটিতে ডাক পড়েছে। ভোটের ক'দিন জেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল কী হবে, প্রশ্ন উঠেছে।
এমজেএন মেডিক্যালের এমএসভিপি সৌরদীপ রায় বলেন, 'কর্মী কম থাকায় এমনিতেই আমাদের সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে ভোটের ডিউটিতে চিকিৎসক-সহ এমন কর্মীদের নেওয়া হচ্ছে, পরিষেবা দিতে সমস্যা হবে। জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে প্রথমে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে নিজে গিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানাই। তিনি বিস্তারিত তথ্য এবং চিঠি জমা দিতে বলেছেন। সেটা দিয়ে এসেছি। তবে এখনও পর্যন্ত ডিউটি বাতিলের কোনও নির্দেশ আসেনি।'
২০১৮-তে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরিত হয়। প্রথম দিন থেকেই এই হাসপাতালে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্কট রয়েছে। একাধিক শূন্যপদ থাকলেও চিকিৎসকরা এখানে আসতে চান না বলে অভিযোগ। হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যার সংখ্যা ৭৮৪টি। তার মধ্যে শয্যা রয়েছে ৬২৮টি। সিনিয়র, জুনিয়ার মিলিয়ে চিকিৎসকের সংখ্যা ২৫০ জনের মতো। যা প্রয়োজনে তুলনায় কম। এর পাশাপাশি নার্স, অন্য স্বাস্থ্যকর্মী, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মী মিলে আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মী রয়েছেন। চিকিৎসক কম থাকায় আউটডোরে সমস্ত বিভাগ প্রতিদিন চালু রাখা যায় না। এ বার 'সার'-এ যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির জেরে প্রশিক্ষণেও বাড়তি দিন লাগতে পারে।
এ ছাড়া ভোটের আগের দিন-সহ নির্বাচনের দিন ও পরের দিন, সব মিলিয়ে বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে ডিউটি করতে পারবেন না চিকিৎসক-সহ অন্য কর্মীরা। এ নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, 'শুধু এমজেএনই নয়, মহকুমা ও ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোটের ডিউটি এসেছে। ভোটের জন্য কর্মীর যেমন প্রয়োজন, তেমনি স্বাস্থ্যও একটি জরুরি পরিষেবা। ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি বাতিলের আবেদন জানানো হবে।'