এই সময়, তমলুক: শিয়রে ভোট। প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে গেরুয়া শিবিরে। প্রকাশ্যে কয়েক জায়গায় বিক্ষোভও দেখিয়েছেন বিজেপির কর্মী–সমর্থকরা। এ সবের মধ্যেই ভোট ঘোষণার পরে তমলুকে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে অতিরিক্ত ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো নিয়ে তরজায় জড়িয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল।
সূত্রের খবর, জেলা বিজেপি কার্যালয়ে বসানো এই সব ক্যামেরার মনিটরিং হচ্ছে কলকাতা এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা বলছেন, ‘বাংলার বিজেপি নেতাদের উপরে ভরসা করতে পারছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই দিল্লি থেকে নজরদারি চলছে।’ জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কে মানিকতলার কাছে তমলুক সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে আগে ছিল ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা। তবে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরে আরও ৮টি ক্যামেরা বসানো হয়। বর্তমানে কার্যালয়ের চারপাশে মোট ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছে। ৮টি ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি দেখা যাচ্ছে কলকাতায় রাজ্য কার্যালয় এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে। অর্থাৎ ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের কাছে রয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বামদেব গুছাইত বলেন, ‘মোদীজির স্বপ্নের ডিজিটাল ভারতের ফলস্বরূপ এই সিসিটিভি ব্যবস্থা। আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চাই, তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে যা যা প্রয়োজন, তা-ই করা হচ্ছে। কাজের সুবিধার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ বিজেপির এই কার্যালয়ের কয়েকশো মিটারের মধ্যেই তমলুকের তৃণমূল বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্রের কার্যালয়। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া বলেন, ‘দিল্লির নেতারা কখনওই জেলা নেতৃত্বকে বিশ্বাস করতে পারেন না। তাঁদের সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। হয়তো তাঁরা মনে করছেন জেলা নেতারা অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বা আর্থিক লেনদেনে যুক্ত। এই কারণেই এমন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আত্মসম্মান থাকলে প্রতিবাদ করা উচিত জেলা বিজেপি নেতাদের।’