• ‘প্রশাসনে এত ভাগাভাগি আগে কোনও দিন ছিল না...’, সরব মমতা
    এই সময় | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার পরের মুহূর্ত থেকেই রাজ্য প্রশাসনের একের পর এক রদবদল। একইদিনে রাজ্যের ২৬৭ জন আধিকারিক বদলিরও নজির দেখা গিয়েছে এ বার। গত ১৫ দিনে রেকর্ড সংখ্যক প্রশাসনিক রদবদলে হাইকোর্টে দায়ের মামলাও। সোমবার নারায়ণগড়ের জনসভা থেকে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও কমিশনকে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন,‘মানুষ যদি এত ভালোবাসে তো এত ভয় পাচ্ছে কেন? ভোট কাটছে কেন? প্রশাসনে ভাগ করছে কেন?’ চার্জশিট থেকে SIR-এ নাম বাদ নিয়েও আক্রমণ শানান নেত্রী। নিজে দলের নেতাদেরও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    এ দিন নারায়ণগড়ের জনসভা থেকে শুরুতেই তৃণমূল সুপ্রিমোর নিশানায় বিজেপি ও কমিশন। পুলিশ থেকে প্রশাসনে মুহুর্মুহু বদলি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘প্রশাসনে ভাগাভাগি আগে কোনও দিন ছিল না। যারা কাজ করত, আমাদের অ্যাসেট— এরকম ভালো ভালো অফিসারদের সরিয়ে দিচ্ছে। এত স্বৈরাচার-অনাচার আমি জীবনে দেখিনি। IPS-IAS-এ ভাগাভাগি, রাজ্য পুলিশে ভাগাভাগি। কে RSS করে, কে বিজেপি করে, কে বিজেপির আত্মীয় তাই খুঁজছে। নিজেদের পুলিশ-লোক নিয়ে এনে ভাবছো তৃণমূলকে জব্দ করবে! এতে উল্টো প্রতিক্রিয়া হবে। লোক একটা ভোটও দেবে না।’

    এখানেই শেষ নয়, SIR নিয়েও কমিশনের উদ্দেশে আবারও কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর অভিযোগ,‘ওরা বলছে চারটে তালিকা নাকি বেরিয়ে গিয়েছে। একটাও চোখে দেখতে পাইনি। চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্র করে আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে। ওদের টার্গেট বাংলাকে বাদ দাও।’ নেত্রীর কথায়, বিজেপির কথায় কমিশন বেছে বেছে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে বাদ দিয়েছে। যদিও ওদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই।’

    শনিবার কলকাতায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কয়েক দফার চার্জশিট পেশ করেছেন অমিত শাহ। এই কর্মসূচির তুমুল সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘এখন আবার আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট বের করেছে। আমি বলছি প্রথম চার্জশিট তো মোদী আর অমিত শাহের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। ওঁরা অশান্তি লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এত বজ্জাত, এত অত্যাচারী দল আমি দেখিনি।’

    যুবসাথী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— প্রকল্পগুলিকে ভিক্ষা বা ভাতা বলে কটাক্ষ করে আসছেন বিরোধীরা। তারই পাল্টা জবাব এ দিন দেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আজীবন যাতে সম্মানের সঙ্গে সবাই বেঁচে থাকতে পারে তার জন্যই এই প্রকল্পগুলি। যুবসাথী ভিক্ষা বা ভাতা নয়, এটা পড়ুয়াদের পকেট খরচা। যে কলেজে যাবে মাধ্যমিক পাস করে তার তো একটা পকেট খরচা চাই। বাবা মায়ের উপর থেকে চাপ কমাতেই এই প্রকল্প। আগে ছোটবেলায় বাবা -মায়েরা চিন্তা করতেন মেয়ের বিয়ে কী ভাবে হবে? এখন মেয়েদের নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। ওরা এখন কন্যাশ্রী পাচ্ছে, রূপশ্রী পাচ্ছে। ঐক্যশ্রী থেকে মেধাশ্রী সবই পাচ্ছে। নাইনে উঠলে বিনা পয়সায় সাইকেল-স্মার্টফোন।’

    জনসভার মঞ্চ থেকে শুধু বিরোধীদেরই নয়, দলীয় নেতা-কর্মীদেরও কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। টিকিট না পেয়ে অসন্তোষ, অসহযোগিতা মোটেও বরদাস্ত করা হবে না তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন তিনি। নারায়ণগড়ের নির্বাচনী প্রচার থেকে মমতা বলেন, ‘একবার টিকিট পেয়েছি। পরেরবার পেতে পারি, নাও পেতে পারি। কেউ যদি মনে করেন, আজীবন আমি একা থাকব আর কেউ থাকবে না, তা ভুল। টিকিট পাননি বলে এটা নয়, কাল থেকে দলের বিরোধীতা করব। যাঁরা মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকবেন, তাঁরা টিকিট পাবেন। আর না পেলে তা নিয়ে অসন্তোষের তো কিছু নেই। আমি তো কাউকে অসম্মান করিনি।’

    নারায়ণগড়ে প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যায় নেত্রী বলেন, ‘এখানে আগের প্রার্থীকে টিকিট দিতে পারিনি। অন্যদেরও তো সুযোগ দিতে হয়। কখনও কখনও সংখ্যালঘুদের, মেয়েদেরও সুযোগ দিতে হয়।’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বার্তা দেন নেত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)