তৃণমূল ছাড়লেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। সোমবার নিজেই ঘোষণা করলেন সেই কথা। জানালেন, বিজেপিতে যোগ দেবেন এবং নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের হয়ে দাপটের সঙ্গে প্রচারে নামবেন। সুনীল জানান, তাঁর কোনও দলের প্রতীক লাগে না। তিনি ১৯৯৫ সালে নির্দল হয়ে ভোটে লড়ে কাউন্সিলার হয়েছিলেন। ২৫ বছরের কাউন্সিলার, এক বারের বিধায়ক, তিন বারের পুর চেয়ারম্যান তিনি।
অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতি সুনীল সিং। ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সুনীল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁকে হারিয়ে নোয়াপাড়ায় জেতেন তৃণমূলের মঞ্জু বসু। সুনীল আবারও ২০২২ সালে তৃণমূলে ফেরেন। বিধানসভা ভোটের মুখে তাঁর ফুলবদল নিয়ে আবারও জল্পনা জোরাল। সুনীলের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তৃণমূল তাঁকে কোনও কাজেই লাগায়নি। বসিয়ে রেখে দিয়েছে।
সুনীল সিং বলেন, ‘আমি আজকে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিলাম। দলে বিশ্বাস যদি না থাকে, দল করা উচিত নয়। ২০২২ সালে আমাকে পার্টি জয়েন করায়। ২০২৬ অবধি দল আমাকে কোনও কাজে লাগায়নি। বসিয়ে রেখেছিল। কারণ একটাই, আমি অর্জুন সিংয়ের আত্মীয়। অথচ আমাদের অনেক দূরের সম্পর্ক। তাও যদি বিশ্বাস না করে, এই দলে এক মুহূর্ত থাকা উচিত নয়।’
নোয়াপাড়ায় তৃণমূল এ বার টিকিট দিয়েছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। ভোট কমিটির কনভেনার করা হয়েছে সুনীল সিংকে। এর পর থেকেই জল্পনা, সুনীল কি আবারও বিজেপিমুখী? এ দিন সুনীল বলেন, ‘ইলেকশন কমিটিতে রাখা হয়েছে, সেটা তৃণমূলের ব্যাপার। ওরা বলেছিল, নোয়াপাড়া বিধানসভায় আমাকে ইলেকশন কমিটির কনভেনার করা হচ্ছে। আমাকে গারুলিয়া পুরসভার কনভেনার করবে বলেছিল। আমি তখনই বলি, আমি রাজি নই। কারণ, আমার তো ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কোনও কাউন্সিলারের সঙ্গে কথাই হয়নি। আমি কী করব কনভেনার হয়ে?’